বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, পরবর্তী সংসদে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়ার বিষয়ে কমিশনের প্রস্তাবে বিএনপির দ্বিমত নেই। আর দুই বছরের সময়সীমা নিয়েও আমরা একমত। আর কমিশনের ৮২৬টি প্রস্তাবের মধ্যে বেশির ভাগই মেনে নিয়েছি। আর ৫১টিতে দ্বিমত পোষণ করেছি। আশা করি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সেগুলোতেও একটি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব।
বুধবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় দফার ২২তম দিনের বৈঠকের বিরতিতে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা শুরু থেকেই কমিশনকে সহযোগিতা করে আসছি। বাংলাদেশে যাতে আর কোনও স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের উৎপত্তি না হয়, সেটি সাংবিধানিক বা সংসদীয়ভাবে কোনোভাবেই যেন না হয়।
তিনি জানান, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে জাতীয় সনদ স্বাক্ষর করার কথা। কিন্তু আজও তেমন অগ্রগতি হলো না। নারী আসন ১০০ করার পক্ষে আমরা মত দিয়েছি। তবে ৫০টি থাকবে আগের মতো। অনেকে অনেক প্রস্তাব দিয়েছেন। আমরা এও বলেছি, সরাসরি নির্বাচন করতে হলে এবার ৫ শতাংশ আসনে নারীদের মনোনয়ন দেওয়া যেতে পারে। পরবর্তী নির্বাচনে ১০ শতাংশ আসন দেওয়া যেতে পারে, এভাবে পর্যায়ক্রমে তাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়বে।
সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সংবিধানের ৫৮-এর ক ও খ ধারা অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান যেন কেউ আর পরিবর্তন করতে না পারে আমরা সেটা চাই।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা যেন নিশ্চিত করা হয়, আমরা সে বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেখছি। গণমাধ্যমকে স্বাধীন করতে চাই। গণমাধ্যম ফোর্থ স্টেট হবে না। হবে ফার্স্ট স্টেট।’
তিনি বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন হওয়ার আগে ৬টি বড় সংস্কার কমিশন হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—নির্বাচন, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, দুদক এবং পুলিশ বিভাগ সংস্কার কমিশন। এসব বিষয়ে বিএনপিসহ বিভিন্ন দল আলাদা লিখিত মতামত দিয়েছে।
ছয়টা কমিশন ছয়টা প্রতিবেদন দিয়েছে। তার মধ্যে সংবিধান সংক্রান্ত সংস্কার কমিশনের পাঁচটা ভলিউমে পঞ্চম খণ্ডে প্রায় ১০০০ পৃষ্ঠার বেশি তারা রিপোর্ট প্রদান করেছে। প্রথম খণ্ডের সুপারিশসহ মোটামুটি মৌলিক আলোচনাগুলো আছে।
‘দফাওয়ারি সমস্ত ডিটেইল সুপারিশের ওপর আমরা আমাদের মতামত আবারও দিয়েছি। কিন্তু, সংস্কার কমিশন একটা স্প্রেডশিট নামে পাঁচটা সংস্কার কমিশনের জন্য কিছু মৌলিক সংস্কার নাম দিয়ে ১৬৬টি প্রস্তাব সংবলিত স্প্রেডশিট দিয়েছিল। পাঁচটি সংস্কার কমিশন পুলিশ বাদে আমরা সেই স্প্রেডশিটে মনোযোগ দেইনি। কারণ সেখানে বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার একটা সুযোগ ছিল। আমরা সেটা ইগনোর করে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টের ওপরে দফাওয়ারি প্রস্তাবের কোনোটাতে একমত, কোনোটাতে দ্বিমত, কোনোটাতে আংশিক একমত, আবার বিভিন্ন মন্তব্যসহ ভিন্নমত দিয়েছি।
তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ছিল ১৩২টি, দুদকের সুপারিশ ছিল ৪৭টি, প্রশাসনের সুপারিশ ২০৮টি। আর বিচার বিভাগের সুপারিশগুলো বিক্ষিপ্তভাবে ছিল। আমরা গুনে ঠিকমতো করে দেখেছি ৮৯টি মেজর সুপারিশ আছে। নির্বাচন ব্যবস্থা সংক্রান্ত ২৪৩, পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ছিল ১০৮টি। সব মিলিয়ে ৮২৬টি সুপারিশ।
তিনি বলেন, এসব বিষয়ে বড় ধরনের কোনও মতানৈক্য নেই।
ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবি উল্লাহ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাগপার একাংশের চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফুর রহমান ও জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দলের (এনডিএম) মহাসচিব মোমিনুল আমিন প্রমুখ।