বৃহস্পতিবার ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬

নোট অব ডিসেন্ট সত্ত্বেও সংসদে নারী প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে: আলী রীয়াজ

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ বলেছেন, নোট অব ডিসেন্ট সত্ত্বেও সংসদে নারী প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। এতে সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব ক্রমান্বয়ে একশত আসনে উন্নীত করা হবে, এ বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত।

সোমবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের ২২তম দিনের সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, কোনও কোনও রাজনৈতিক দল সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে এবং কেউ কেউ সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের পক্ষে।

অবিলম্বে আশু পদক্ষেপ হিসেবে সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি করা যায়—সেজন্য কতগুলো বিষয়ে কিছু রাজনৈতিক দলের নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) সত্ত্বেও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পেরেছি।

 

তিনি বলেন, সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি করতে আশু পদক্ষেপগুলো হল, বিদ্যমান সংরক্ষিত ৫০টি আসন বহাল রেখে সংবিধানের ৬৫(৩) অনুচ্ছেদের প্রয়োজনীয় সংশোধন, জুলাই সনদ সইয়ের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে প্রত্যেক রাজনৈতিক দলকে ৩০০ আসনের জন্য ন্যূনতম ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো ১০ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেবে। এই পদ্ধতিতে ন্যূনতম ৩৩ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়নের জন্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটা সাধারণ নির্বাচনে ন্যূনতম ৫ শতাংশ বর্ধিত হারে নারী প্রার্থী মনোনয়ন অব্যাহত থাকবে। সংবিধানে সপ্তদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংরক্ষিত নারী আসনের মেয়াদ ২৫ বছর বৃদ্ধি করা হয়। হিসাব অনুযায়ী তা ২০৪৩ সাল পর্যন্ত বহাল থাকবে। তবে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে ৩৩ শতাংশ নারী প্রার্থিতার লক্ষ্য ২০৪৩ সালের আগেই যদি অর্জিত হয় তাহলে সপ্তদশ সংশোধনীর মাধ্যমে প্রবর্তিত বিধান নির্ধারিত সময়ের আগেই বাতিল হয়ে যাবে।

এছাড়াও আলী রীয়াজ জানান, ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্যে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্ব বৃদ্ধি করতে সংবিধানের ৪৮ (৩) অনুচ্ছেদ সংশোধনপূর্বক কিছু প্রস্তাব রাজনৈতিক দলগুলোকে দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছালে সংবিধান ও আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনয়নের বিষয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, এলডিপি, গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টিসহ ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

কমিশনের সদস্য হিসেবে ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।

Translate