মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকের চেষ্টা করছেন বলে যে খবর ছড়িয়েছে, তা অস্বীকার করেছেন ট্রাম্প। তবে ট্রাম্প বলেছেন, শি’র আমন্ত্রণে তিনি চীন সফরে যেতে পারেন। সোমবার (২৮ জুলাই) ট্রুথ সোশাল প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘ভুয়া সংবাদমাধ্যম বলছে আমি চীনের প্রেসিডেন্ট শি’র সঙ্গে ‘শীর্ষ বৈঠক’ চাচ্ছি। এটা সঠিক নয়, আমি কিছুই চাচ্ছি না!’ কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
ট্রুথ সোশালে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি চীন যেতে পারি, তবে শুধু প্রেসিডেন্ট শি’র আমন্ত্রণে, যা ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে। না হলে, আগ্রহ নেই!’
ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে এমন সময়ে, যখন গত সপ্তাহে রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ট্রাম্প ও শির উপদেষ্টারা এই বছরের শেষ দিকে এশিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের সফরের সময় দুই নেতার মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে আলোচনা করেছেন।
প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাতে বলা হয়, ট্রাম্প ও শি জিনপিং দক্ষিণ কোরিয়ায় ৩০ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠক করতে পারেন।
ট্রাম্প ও শি সর্বশেষ মুখোমুখি দেখা করেন ২০১৯ সালে জাপানের ওসাকায় জি২০ সম্মেলনের ফাঁকে।
এই সফরটি হবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে শি’র সঙ্গে তার প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ। এটি হবে এমন এক সময়ে যখন দুই পরাশক্তি প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে বাণিজ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
যদিও এখনও কোনও বৈঠকের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়নি, তবে প্রশান্ত মহাসাগরের উভয় পাশের আলোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, ট্রাম্প এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন সম্মেলনের সময় বা অক্টোবর ৩০ বা নভেম্বর ১ তারিখের ইভেন্টের ফাঁকে কোনও এক সময় শি’র সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন।
সোমবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ও চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী হে লিফেং সুইডেনের স্টকহোমে দুই দিনব্যাপী এক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকের লক্ষ্য হচ্ছে ৯০ দিনের একটি শুল্ক বিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে একটি বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছানো। এই সময়সীমা শেষ হবে ১২ আগস্ট।
গত সপ্তাহে ব্লুমবার্গ টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, “আমরা এখন চীনের সঙ্গে খুব ভালো অবস্থানে রয়েছি” এবং আগস্টের সময়সীমাটি “৯০ দিনের আরও একটি মেয়াদে” বাড়ানো যেতে পারে।
যদি নতুন করে শুল্ক আরোপ বা রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, তাহলে তা শি’র সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।