বৃহস্পতিবার ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬

ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি, ইউরোপীয় পণ্য রফতানিতে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) একটি বাণিজ্য চুক্তির কাঠামোতে পৌঁছেছে। এর ফলে বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনৈতিক অংশীদারের মধ্যে কয়েক মাসব্যাপী অচলাবস্থার অবসান ঘটলো। চুক্তির আওতায়, যুক্তরাষ্ট্রে ইউরোপীয় পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। রবিবার (২৭ জুলাই) স্কটল্যান্ডে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেনের মধ্যে সঙ্কটময় আলোচনা শেষে, এই বিষয়ে একমত হন উভয় পক্ষ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

এ চুক্তির মধ্য দিয়ে দুই মিত্র পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের বাণিজ্য যুদ্ধ এড়ানো গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

পুরো বিশ্বে যে বাণিজ্য হয়, তার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই দেশ ও জোটের মধ্যে হয়ে থাকে।

বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ২৭ সদস্যের ইইউ ব্লক কিছু নির্দিষ্ট পণ্যে শূন্য শতাংশ শুল্কে মার্কিন রপ্তানিকারকদের জন্য বাজার উন্মুক্ত করবে।

ভন ডার লেনও এই চুক্তির প্রশংসা করে বলেছেন, এটি উভয় মিত্রের জন্য স্থিতিশীলতা নিয়ে আসবে।

চুক্তির আগে ট্রাম্প এবং ভন ডার লেন এক ঘণ্টা ধরে বৈঠক করেন। এর পর স্কটল্যান্ডের পশ্চিমে ট্রাম্পের বিলাসবহুল গলফ কোর্সে এই চুক্তির ঘোষণা দেন।

পাঁচ দিনের স্কটল্যান্ড সফরে থাকা ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি, এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় চুক্তি। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিকল্পনার প্রশংসা করেন। এই পরিকল্পনার আওতায় তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি ও সামরিক সরঞ্জাম কেনার পরিমাণ অনেক বেশি বাড়াবে।’

বৈশ্বিক অর্থনীতিকে পুনর্গঠনের এবং আমেরিকার বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের বিরুদ্ধে শুল্ক ব্যবহার করেছেন ট্রাম্প।

ইইউ ছাড়াও, যুক্তরাজ্য, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামের সঙ্গে শুল্ক চুক্তি করেছেন তিনি। যদিও তার ঘোষিত ‘৯০ দিনে ৯০টি চুক্তি’র লক্ষ্য পূরণ হয়নি।

২০২৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পণ্যের বাণিজ্য ছিল প্রায় ৯৭৬ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপ থেকে প্রায় ৬০৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে এবং প্রায় ৩৭০ বিলিয়ন ডলার রফতানি করেছে।

এই ভারসাম্যহীনতা বা বাণিজ্য ঘাটতি ট্রাম্পের জন্য একটি প্রধান বিষয়। তিনি বলেন, এই ধরনের বাণিজ্য সম্পর্ক মানে যুক্তরাষ্ট্র হারছে।

এদিকে ইউরোপীয় নেতারা সতর্কভাবে এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন।

আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী টাওইশেখ মিখায়েল মার্টিন উল্লেখ করেছেন যে, শুল্ক আগের তুলনায় এখনও বেশি থাকবে, যা বাণিজ্যকে “আরও ব্যয়বহুল এবং আরও চ্যালেঞ্জিং” করে তুলবে।

ইইউ দেশগুলোর মধ্যে, আয়ারল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের ওপর রফতানিতে সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল।

জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্জ এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেছেন, একটি বাণিজ্যিক সংঘাত জার্মানিকে কঠোরভাবে প্রভাবিত করত।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার ট্রাম্পের সঙ্গে টার্নবেরিতে নিজের সাক্ষাতের পরিকল্পনা করছেন।

Translate