নগরের হালিশহরে ভাঙা সড়কের দুর্ভোগ নিয়ে পূর্বকোণে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তৎপর হয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। সংস্থাটির একটি প্রতিনিধি দল গতকাল বুধবার দুপুরে ওই এলাকা পরিদর্শন করে। সেখানে চট্টগ্রাম ওয়াসা নিয়ম না মেনে বর্ষা মৌসুমে সড়ক কাটছে বলে দাবি করেছেন চসিকের কর্মকর্তারা। এখন আর কোনো সড়ক না কাটতে সতর্ক করে দেন তারা। তবে ওয়াসার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন তারা নিয়ম মেনেই সব করছেন। সার্বিক পরিস্থিতিতে আগামী ৯ জুলাই দুই সংস্থার বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।
গতকাল পূর্বকোণের শেষ পৃষ্ঠায় ‘হালিশহরের দুঃখ, ভাঙা রাস্তার দীর্ঘশ্বাস’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে নগরের পশ্চিমাংশের ওই এলাকার মানুষের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরা হয়।
চসিকের প্রধান প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান সোহেল বলেন, পূর্বকোণে প্রতিবেদন প্রকাশের পর আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি এখনও ওয়াসা সেখানে কাজ করছে। কাজ শুরুর আগে ওয়াসা আমাদের কথা দিয়েছিল জুন মাসের মধ্যে যেসব রাস্তার কাজ শেষ হবে সেগুলো আমাদের হস্তান্তর করা হবে। কথা ছিল সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষা মৌসুম হওয়ায় ওয়াসা আর কোনো সড়ক কাটবে না। কিন্তু ওয়াসা এখনও সেখানে কাজ করছে। পরবর্তীতে আর কাজ না করার জন্য আমরা তাদের সতর্ক করেছি।
এসব বিষয়ে আগামী ৯ জুলাই ওয়াসার সঙ্গে চসিক বৈঠক করবে জানিয়ে মো. আনিসুর রহমান বলেন, আগামীতে খুব জরুরি প্রয়োজনেও যদি কোনো সড়ক কাটতে হয়, ওয়াসা আমাদের জানিয়েই তা করবে।
তবে চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেছেন, চসিকের সঙ্গে ওয়াসার পয়োনিষ্কাশন প্রকল্পের চুক্তির মধ্যে বর্ষা মৌসুমে কোন কোন সড়ক কাটা হবে সেটিও উল্লেখ আছে। আমরা সে অনুযায়ী কাজ করছি। আমাদের কাজ শেষে চসিকের সংস্কার করে দেওয়ার কথা রয়েছে। আমরা এখন পর্যন্ত পয়োনিষ্কাশন প্রকল্পের অধীনে কাটা সড়ক সংস্কারের জন্য চসিককে ৭০ কোটি টাকা দিয়েছি। আর চাইলেই তো প্রকল্পের কাজ তো বন্ধ রাখা যাবে না। কেননা তিনমাস কাজ বন্ধ রাখা মানে প্রকল্পের কাজ অনেক পিছিয়ে যাওয়া। সেটি হলে আমরা বড় সমস্যায় পড়ে যাব।
বৈঠকের বিষয়ে চসিক থেকে এখনও কিছু জানানো হয়নি উল্লেখ করে মাকসুদ আলম বলেন, যে কোনো সময়ে বসতে আমরা রাজি আছি।