বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
একটি কবিতার বই–একটি বার্তা।
১৩ জুন ২০২৫। লন্ডনের ডোরচেস্টার হোটেলে অনুষ্ঠিত হয় একটি বহুল আলোচিত বৈঠক—বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রিয় নেতা জনাব তারেক রহমান এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে। বৈঠকটি যতটা ছিল রাজনৈতিক কৌশল ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু, ততটাই তাৎপর্যপূর্ণ ছিল একটি নিঃশব্দ মুহূর্ত—যখন প্রিয় নেতা জনাব তারেক রহমান ড. ইউনূসকে উপহার দেন দুটি বই ও একটি কলম। বইগুলোর একটি ছিল কবিতার সংকলন: “Nature Matters: Vital Poems from the Global Majority”।
এই বইটি কেবল একটি সাহিত্য রচনার সংকলন নয়। এটি এমন এক বিশ্বদৃষ্টির প্রতিনিধিত্ব করে, যেখানে প্রকৃতি, মানুষ, স্মৃতি ও প্রতিরোধ—সব একসঙ্গে সংলাপ তৈরি করে। এ সংকলনে উঠে এসেছে আফ্রিকা, এশিয়া, ক্যারিবিয়ান এবং প্রবাসী কবিদের কণ্ঠ—যাঁদের অভিজ্ঞতা মূলধারার সাহিত্যিক কাঠামোয় দীর্ঘদিন অন্তর্ভুক্ত হয়নি। কবিতাগুলোতে জলবায়ু সংকট যেমন আছে, তেমনি আছে নিঃস্বতার ভাষা, বাস্তুচ্যুতি, ঔপনিবেশিক স্মৃতি এবং সামাজিক সহনশীলতার ডাক।
তাহলে প্রশ্ন জাগে—এই বই কেন? এই সময়ে, এই বৈঠকে ?
যদি গভীরভাবে ভাবি, তবে এই উপহার একটি বার্তার বাহক।প্রিয় নেতা জনাব তারেক রহমানের এই বই প্রদানে প্রতিফলিত হয়েছে এক ধরনের নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি। যেখানে রাজনীতি কেবল সংখ্যানুপাতে ক্ষমতা পাওয়ার লড়াই নয়, বরং ভবিষ্যৎ নির্মাণের একটি সাংস্কৃতিক প্রতিশ্রুতি। জলবায়ু পরিবর্তন, বাস্তুসংস্থান ধ্বংস, সামাজিক বৈষম্য। এই সবকিছুর সমাধান রাজনীতিকদের একক দায়িত্ব নয়, সাহিত্যেরও।
অন্যদিকে, ড. ইউনূসও বহু বছর ধরেই সামাজিক ব্যবসা ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের কথা বলে আসছেন। তাঁর হাতে এই সংকলন তুলে দেওয়া যেন এক প্রতীকি সংলাপ—দুই ভিন্ন পথ থেকে আসা দুই ব্যক্তিত্ব এক জায়গায় মিলে যাচ্ছেন ভবিষ্যতের স্বপ্নে।
আমরা যখন প্রতিদিনই রাজনৈতিক মেরুকরণ, হিংসা, আর ব্যক্তিকেন্দ্রিক ভাষ্য দেখছি, তখন একটি কবিতার বই উপহার দেওয়া আমাদের মনে করিয়ে দেয়—দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো যায়। রাজনীতি যদি ভবিষ্যতের পথ নির্ধারণ করে, তবে সাহিত্য সেই পথের দিশা দেখায়।
“Nature Matters” একটি সংকলন, কিন্তু এটি একটি সম্ভাবনারও নাম। যে সম্ভাবনায় একটি রাজনৈতিক সমাজ হয়ে উঠতে পারে আরও মানবিক, আরও পরিবেশ সচেতন, আরও কবিতার মতো—আন্তরিক ও দায়বদ্ধ।
এই বইটি হয়তো বৈঠকের আনুষ্ঠানিক আলোচনার অংশ ছিল না, কিন্তু এটি ছিল হয়তো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভাষাহীন বার্তা। ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে এর অনুরণন কতদূর যাবে, তা সময়ই বলে দেবে।
গাজী মুহাম্মদ শাহজাহান জুয়েল।