উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েল নিয়ে সিঙ্গাপুর থেকে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল আটটায় ‘এমটি গ্রেট প্রিন্সেস’ জাহাজটি বন্দরের জেটিতে প্রবেশ করে। জাহাজটিতে প্রায় ১২ হাজার টন জেট ফুয়েল রয়েছে। তেল সরবরাহ করেছে ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেড। পাশাপাশি ৬৮ হাজার টন ডিজেল নিয়ে আজ রাতে আসছে আরও দুই জাহাজ।
সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, ১২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে জেট ফুয়েলের মজুত ছিল প্রায় ২২ হাজার টন, যা দিয়ে প্রায় ১৫ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। নতুন চালান যুক্ত হওয়ায় মজুত আরও বেড়েছে। যদিও দেশে জেট ফুয়েলের চাহিদা তুলনামূলক কম। ১ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে ২১ হাজার টন, দৈনিক গড় এক হাজার ৭৫৮ টন। গত বছরের একই সময়ে গড় বিক্রি ছিল প্রায় দেড় হাজার টন।
এদিকে ডিজেল নিয়ে আজ রাত ১১টায় চট্টগ্রামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে আরও দুটি জাহাজ। ‘এমটি টর্ম দামিনি’ জাহাজে রয়েছে প্রায় ৩৩ হাজার টন ডিজেল, যা সরবরাহ করেছে ইউনিপ্যাক সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড। একই সময়ে ‘এমটি লুসিয়া সলিস’ জাহাজে আসছে প্রায় ৩৫ হাজার টন ডিজেল; সরবরাহকারী কোম্পানি সিঙ্গাপুরভিত্তিক ভিটল এশিয়া।
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, চলতি এপ্রিল মাসে দেশে ডিজেলের মোট চাহিদা প্রায় চার লাখ টন। এই চাহিদা মেটাতে মাসজুড়ে একাধিক চালান আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে চাহিদার তুলনায় চাপ পুরোপুরি কাটেনি। ১ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে ডিজেল বিক্রি হয়েছে মোট ১ লাখ ৩৩ হাজার টন, দৈনিক গড় ১১ হাজার ১৩৮ টন।
বিপিসি ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, ১২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে সরবরাহযোগ্য ডিজেলের মজুত ছিল ১ লাখ ১৯ হাজার টন, যা দিয়ে প্রায় ১০ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব ছিল। নতুন চালান যুক্ত হওয়ায় মজুত আরও ৪/৫ দিন বাড়বে।
বিপিসির চেয়ারম্যান রেজানুর রহমান বলেন, ইতিমধ্যে কয়েকটি জাহাজ এসেছে, সামনে আরও আসবে। চুক্তিবদ্ধ সরবরাহকারীদের পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও তেল আমদানির চেষ্টা চলছে। চলতি মাসে জ্বালানি তেলের সরবরাহে কোনও সংকট হওয়ার আশঙ্কা নেই।