৩০ বছর বয়সের পর মার্কিন সেনাদের টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করল পেন্টাগন

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সি সদস্যদের টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার নীতি আবারও চালু করা হয়েছে। আগে এ নীতি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে চিকিৎসাবিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে এর প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর নতুন নির্দেশনা প্রকাশ করেছে পেন্টাগন।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এ নীতির নতুন নির্দেশনা প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের উদ্যোগে নীতিটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

গত জুলাইয়ে হেগসেথ প্রথম এ নীতি ঘোষণা করেন। তখন তিনি বলেছিলেন, সম্ভাব্য ‘টেস্টোস্টেরন ঘাটতি’ শনাক্ত করা এবং সেনাসদস্যদের সর্বোচ্চ সক্ষমতায় কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য এই পরীক্ষা প্রয়োজন।

অনলাইনে বিভিন্ন পডকাস্ট ও স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রভাবশালীদের মধ্যেও টেস্টোস্টেরন নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। তাদের কেউ কেউ স্বাস্থ্য ও পেশি বৃদ্ধির জন্য টেস্টোস্টেরন ইনজেকশন ব্যবহারের প্রচার করছেন। পেন্টাগনের নতুন উদ্যোগও এ ধরনের প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

পেন্টাগনের এক বিবৃতিতে হেগসেথ বলেন, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো সেনাসদস্যদের স্বাভাবিক শারীরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার ও সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়া, দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সামরিক দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক ভিত্তি নিশ্চিত করা।

তবে চিকিৎসাবিশেষজ্ঞরা এ কর্মসূচিকে অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন। তাদের আশঙ্কা, ভুলভাবে প্রয়োগ করা হলে টেস্টোস্টেরনভিত্তিক চিকিৎসার কারণে সেনাসদস্যদের বন্ধ্যাত্বসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত জটিলতা দেখা দিতে পারে। এ কারণে পেন্টাগন গত সেপ্টেম্বরে নীতিটির আগের সংস্করণ সাময়িকভাবে স্থগিত করে। তখন বলা হয়েছিল, প্রয়োজনীয় কিছু হালনাগাদ করার জন্য এটি করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা শুধু পুরুষ সেনাসদস্যদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এতে টেস্টোস্টেরন ঘাটতি শনাক্ত করতে অভিন্ন পরীক্ষা পদ্ধতি এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়েছে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও বার্ষিক মূল্যায়নের সময় টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা করা হবে। তবে ৩০ বছরের কম বয়সি সেনাসদস্যরাও চাইলে এই পরীক্ষা করার অনুরোধ জানাতে পারবেন।

সামরিক বাহিনীর প্রস্তুতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিতে প্রয়োজনীয় বলে দাবি করে হেগসেথ বিভিন্ন নীতিতে জোর দিচ্ছেন। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ডানপন্থী সাংস্কৃতিক বিতর্কের বিষয়গুলো সামরিক বাহিনীতে নিয়ে আসা হচ্ছে।

ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে তৃতীয় লিঙ্গ ও রূপান্তরকামী ব্যক্তিদের সামরিক বাহিনীতে দায়িত্ব পালনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। পাশাপাশি সামরিক অভিযানে বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য নেওয়া কিছু সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হয়েছে। সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে মতবিরোধ রয়েছে এমন কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তাকেও দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে।

হেগসেথ বলেন, আমরা অস্ত্র ব্যবস্থা, সামরিক সরঞ্জাম ও বিভিন্ন যুদ্ধপ্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছি। তবে আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা সবসময়ই থাকবেন একজন একজন করে যুদ্ধরত সেনাসদস্য।

সূত্র: আলজাজিরা

Translate