শনিবার ২০শে জুন, ২০২৬

হিজবুল্লাহর হামলায় ব্যাটালিয়ন প্রধানসহ ৪ ইসরায়েলি সেনা নিহত

দক্ষিণ লেবাননের কাফর তিবনিত গ্রামে রাতভর হিজবুল্লাহর এক প্রাণঘাতী হামলায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) ৪ ট্যাংক ক্রু সেনা নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর একই এলাকায় হিজবুল্লাহর আরেকটি ড্রোন হামলায় আরও ৫ ইসরায়েলি সেনা আহত হয়েছেন। শুক্রবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

অন্যদিকে, লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। তবে এই নিহতের তালিকায় কতজন সাধারণ নাগরিক বা কতজন সশস্ত্র যোদ্ধা রয়েছেন, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানানো হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলতি সপ্তাহে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পরও লেবাননে ইসরায়েল এবং ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে এই প্রাণঘাতী সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। ওই সমঝোতা স্মারকে দুই দেশ ও তাদের মিত্রদের শত্রুতা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তবে ইসরায়েল এই চুক্তির কোনও পক্ষ ছিল না। সীমান্ত শহরগুলোকে হিজবুল্লাহর হাত থেকে রক্ষা করতে দক্ষিণ লেবাননে তৈরি করা বাফার জোন থেকে সেনা প্রত্যাহার করার ইরানি দাবি ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল।

আইডিএফ জানিয়েছে, গত মধ্যরাতের পর কাফর তিবনিতে হিজবুল্লাহর একটি সন্দেহভাজন ড্রোন বা ট্যাংক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ৪০১তম আর্মার্ড ব্রিগেডের ৫২তম ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ডর গেদালিয়া বেন সিমহনের ট্যাংকে আঘাত হানে। এতে ট্যাংকে থাকা কমান্ডারসহ চার ক্রু সদস্যই নিহত হন। নিহত অন্য তিন সেনার নাম পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধানে আইডিএফ তদন্ত শুরু করেছে।

এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর কাফর তিবনিতেই হিজবুল্লাহর আরেকটি বিস্ফোরক ড্রোন কমান্ডো ব্রিগেডের ওপর আঘাত হানলে আরও ৫ ইসরায়েলি সেনা আহত হন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের মধ্যে একজন রিজার্ভিস্ট কর্মকর্তা, তিন জন সাধারণ রিজার্ভিস্ট এবং একজন এনসিও রয়েছেন।

একটি বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা কাফর তিবনিত এলাকা এবং আলী তাহের পর্বতশৃঙ্গ রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাবে।

আইডিএফ দাবি করেছে, বৃহস্পতিবার রাত থেকে লেবাননের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে তারা ডজনখানেক হিজবুল্লাহ যোদ্ধাকে হত্যা করেছে। নাবাতিয়াহ এবং দক্ষিণ লেবাননের অন্যান্য এলাকায় হিজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টার, রকেট লঞ্চার এবং অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে। এ ছাড়া শুক্রবার সকালে হিজবুল্লাহর শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত পূর্ব বেকা উপত্যকার দুটি কমান্ড সেন্টারেও হামলা চালানো হয়। আইডিএফের দাবি, যুদ্ধবিরতি ‘বারবার লঙ্ঘন’ করার জবাবেই তারা এই হামলা চালিয়েছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলার কারণে তারা নিহতদের মরদেহ ও আহতদের উদ্ধার করতে পারছে না। প্রাথমিকভাবে দক্ষিণ লেবাননের ১০টি এলাকায় ১৮ জন নিহত ও ৩৩ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

Translate