যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের সেন্ট লুইস শহর ও এর আশপাশে শুক্রবার প্রবল ঝড়বৃষ্টির সঙ্গে টর্নেডো আঘাত হানলে অন্তত ৭ জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
এদিন সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে সেন্ট লুইস শহরের কর্মকর্তারা জানান, দুপুরের দিকে শুরু হওয়া প্রবল ঝড়ে শহরের ৫,০০০-এর বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সেন্ট লুইস চিলড্রেনস হসপিটাল এবং বার্নস-জিউইশ হসপিটালের এক মুখপাত্র জানান, দুই হাসপাতাল মিলিয়ে অন্তত ৩৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন— যার মধ্যে শিশুদের হাসপাতালে ১৫ জন এবং বার্নস-জিউইশে ২০ থেকে ৩০ জন আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সেন্ট লুইসের মেয়র কারা স্পেন্সার জানান, শহরে মৃতের সংখ্যা চার থেকে বেড়ে পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে। এর আগে তিনি বলেছিলেন, নিহতদের মধ্যে দুজন নর্থ সিটিতে মারা যান, যেখানে একটি টর্নেডো দেখা গিয়েছিল।
মেয়র আরও বলেন, ফরেস্ট পার্ক থেকে শহরের উত্তর সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে।
সেন্ট লুইসের ফায়ার চিফ ডেনিস জেনকারসন জানান, শহরের প্রায় ২০টি ব্লক এই তাণ্ডবের কবলে পড়ে।
পুলিশ মুখপাত্র মিচ ম্যাককয় বলেন, এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে এবং মিসৌরি স্টেট হাইওয়ে পেট্রোল ও আশপাশের জেলার উদ্ধারকারী বাহিনী এতে সহায়তা করছে।
তিনি এনবিসি সহযোগী কেএসডিকেকে বলেন, ‘মানুষকে যতটা সম্ভব উদ্ধার করতে এবং প্রাণ বাঁচাতে আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করছি’।
তীব্র ঝড়ের পর শহরের অনেক এলাকা অন্ধকারে ডুবে গেছে। PowerOutage.us-এর তথ্যমতে, শুক্রবার রাতে সেন্ট লুইস অঞ্চলে ৪০,০০০-এর বেশি বিদ্যুৎ গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ছিলেন। পুরো মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে এই সংখ্যা ৯৭,০০০-এরও বেশি।
জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের আবহাওয়াবিদ মার্শাল ফাফলার জানান, শুক্রবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের পর ফরেস্ট পার্কের কাছে টর্নেডো দেখা যায়, যা পূর্ব দিকে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের গ্রানাইট সিটির দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।
এদিকে দেশটির জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর পরে এক্সে (সাবেক টুইটার)-এ জানায়, ‘ক্ষতির ধরন এবং রাডার চিত্র দেখে ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার সেন্ট লুইসের কিছু অংশে টর্নেডো ঘটেছে। শনিবার আমরা মাঠে গিয়ে পর্যবেক্ষণ করব এবং একটি রেটিং নির্ধারণ করব’।
এর আগে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেএসডিকে জানিয়েছিল, শুক্রবার ওই অঞ্চলে দুটি টর্নেডো আঘাত হানতে পারে। জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর দ্বিতীয় টর্নেডোটির সত্যতা যাচাই করছে।