বুধবার ১৭ই জুন, ২০২৬

সেদিন খুলেছিল স্বপ্নের দরজা

বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা মাঠে দিগ্‌বিদিক ছুটছেন। ডাগ-আউট থেকে ছুটে আসছেন দলের বাকি সবাই। মাশরাফি বিন মুর্তজা দাঁড়িয়ে ছিলেন মিড অফে, সেখানেই উপুড় হয়ে শুয়ে পড়লেন। সেদিকে চোখ পড়তেই একে একে সবাই ঝাঁপিয়ে পড়লেন অধিনায়কের ওপর। অ্যাডিলেড ওভালের সবুজ ঘাসে লাল-সবুজের অপরূপ একটা ছবি আঁকা হয়ে গেল।

ফুটবলে এমন দৃশ্য অহরহই দেখা যায়। ক্রিকেটে একটু বিরলই বটে। তা বিরল সাফল্যের উদ্‌যাপন তো একটু ব্যতিক্রমীই হবে। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের বিরূপ কন্ডিশনে বিশ্বকাপ আর সেটিতেই কি না গ্রুপের শেষ ম্যাচ বাকি থাকতেই বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনালে!

ম্যাচ শেষ হওয়ার পর অ্যাডিলেড ওভালের বাইরের আঙিনাটা যেন মিরপুর হয়ে গেল। ‘আমার দেশ তোমার দেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ’ স্লোগান চলছে, ডুগডুগির মতো কী যেন একটা বাজছে, বাতাসে গর্বিত ভঙ্গিমায় দুলছে লাল-সবুজ পতাকা…স্বপ্ন আর সত্যি এক বিন্দুতে মিলে গেলে সেই আনন্দ এমন বাঁধনহারাই হয়।

অ্যাডিলেড ওভাল অনেক ক্রিকেট ইতিহাসের সাক্ষী। ত্রিশের দশকে উডফুল আর ওল্ডফিল্ডকে ছোবল দেওয়া লারউডের আগুনে গোলায় বডিলাইন সিরিজ উত্তেজনার তুঙ্গ ছুঁয়েছিল এখানেই। এই মাঠকেই নিজের হোমগ্রাউন্ড করে নিয়েছিলেন স্যার ডন ব্র্যাডম্যান। ইতিহাসের আরও কতশত টুকরো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে এই মাঠে। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসেও এখন নাম লেখা হয়ে গেল অ্যাডিলেড ওভালের। এখানেই যে রচিত হলো বাংলাদেশের ক্রিকেটের অমর এক কাব্য।

Translate