শনিবার ২৩শে মে, ২০২৬

সরকারি হাসপাতালে ঠাঁই নাই, বেসরকারিতে দিচ্ছে না ভর্তি

চট্টগ্রামে ছড়িয়ে পড়া হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুদের চিকিৎসা না দিয়ে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো ফিরিয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ছোঁয়াচে রোগের অজুহাতে এবং দায় এড়াতে কিছু কিছু প্রাইভেট হাসপাতাল রোগীদের সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর বা ‘রেফার’ করে দিচ্ছে।  এতে করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মতো টার্শিয়ারি সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। শয্যা সংকটের কারণে সেখানে এক বেডেই তিন থেকে চারজন শিশুকে রেখে চিকিৎসা দিতে বাধ্য হচ্ছেন চিকিৎসকরা। এতে ভোগান্তিতেও পড়তে হচ্ছে অভিভাবকদের।
এমন চরম সংকটের মুখে চট্টগ্রাম বিভাগের সকল জেলা বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক ওনার্স এসোসিয়েশনকে কঠোর নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয়। গত ২০ মে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি স্বাক্ষরিত ওই চিঠি সকল জেলা সিভিল সার্জনকে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়। ‘জনস্বার্থ বিবেচনায় বিষয়টি অতীব জরুরি’ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ইদানিং লক্ষ্য করা যাচ্ছে কিছু কিছু প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে হামের রোগীদের চিকিৎসা না দিয়ে অন্যত্র রেফার করা হচ্ছে, যার ফলে সরকারি হাসপাতালে সন্দেহজনক রোগীর চাপ বাড়ছে।
চিঠিতে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি সকল প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকে হাম উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীকে অন্য হাসপাতালে রেফার না করে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার এবং প্রয়োজনে পৃথক শয্যার ব্যবস্থা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা সবাইকে চিঠি দিয়ে নির্দেশনা দিয়েছি। আমরা আশা করি, করোনাকালীন সময়ের মতো এবারও সবাই হাম আক্রান্ত শিশুদের ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করবেন এবং সেবার দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।
এদিকে, স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনা মহামারির সময় যেভাবে জেনারেল হাসপাতালকে ডেডিকেটেড ঘোষণা করা হয়েছিল কিংবা বেসরকারি খাতে ‘ভিজিল্যান্স টিম’ গঠন করে আইসোলেশন সেন্টার করা হয়েছিল, হামের ক্ষেত্রে তেমন কোনো সমন্বিত উদ্যোগ এখনও দৃশ্যমান নয়। তাই এখনই এ বিষয়ে আরও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।
চট্টগ্রাম জনস্বাস্থ্য অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ডা. সুশান্ত বড়ুয়া বলেন, করোনা ছিল বৈশ্বিক মহামারি, পৃথিবীর জন্যই নতুন এবং সবার মাঝে একটা আতঙ্ক ও ভয় ছিল। কিন্তু হাম পুরনো, পরিচিত ও চেনা রোগ এবং এটি কেবল দেশেই আক্রান্ত হচ্ছে দেখে এটা নিয়ে হৈচৈ বা ভীতি কম। তবে যেহেতু এখন প্রকোপ ও শিশু মৃত্যু বাড়ছে, তাই সরকার, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং স্থানীয় উদ্যোগে দ্রুত আইসোলেশন সেন্টার ও হাম কর্নার খোলা জরুরি। যদিও ইতিমধ্যে অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে নতুন করে হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩১ জন। এ নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৪৪ জনে। এর মধ্যে সরকারি ল্যাবের পরীক্ষার মাধ্যমে ১৫৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৫৯০ জন।
Translate