চট্টগ্রাম, ২৫ জুলাই ২০২৫ | নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান জানিয়েছেন, সংসদ সদস্যদের জন্য আমদানিকৃত গাড়িগুলো নিলামে তোলা হলেও আশানুরূপ দাম ওঠেনি। ফলে এ নিয়ে এখন বিকল্প চিন্তা করা হচ্ছে। কিছু সরকারি সংস্থা ৬০ শতাংশ দামে গাড়িগুলো কিনতে চাচ্ছে, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে এসব গাড়ি পানির দরে বিক্রি করতেও চায় না এনবিআর, আবার বছরের পর বছর ফেলে রাখার পক্ষেও নয় তারা।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান তিনি। ওই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ। সভায় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা পণ্য খালাসে নানা সমস্যা ও দুর্ভোগের বিষয় তুলে ধরেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা প্রায় ছয় হাজার কনটেইনার দ্রুত নিলামের মাধ্যমে অপসারণ করা হবে। এরইমধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ কনটেইনার ইনভেন্টরি সম্পন্ন হয়েছে, বাকি অংশ শেষ হবে আগামী চার মাসের মধ্যে। বড় পরিসরে নিলামের প্রস্তুতি চলছে। ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালানো হচ্ছে যাতে ব্যবসায়ী মহল নিলামে অংশ নিতে আগ্রহী হয়। এমনকি প্রয়োজনে শহরে মাইকিংয়ের ব্যবস্থাও করা হবে। সময়ক্ষেপণ এড়াতে প্রথম নিলামেই সর্বোচ্চ দরদাতাকে চূড়ান্ত করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামে তিনটি ‘আইকনিক’ ভবনের পরিকল্পনার কথাও জানান এনবিআর চেয়ারম্যান। একটি হবে নান্দনিক কাস্টমস হাউস, দ্বিতীয়টি কাস্টমস একাডেমি এবং তৃতীয়টি কর ভবন, যা নির্মিত হবে আগ্রাবাদ এলাকায়। কাস্টমস হাউস নির্মাণের জন্য পুরাতন ভবন ভাঙতে হবে, তাই অস্থায়ীভাবে এটি স্থানান্তর করা হবে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে। এ সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তাদের জন্য আরও সুবিধাজনক হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বর্তমান সার্ভার সমস্যার সমাধানে একটি আধুনিক ও নিরবচ্ছিন্ন অটোমেশন সিস্টেম গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান মো. আবদুর রহমান খান। তিনি বলেন, আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে এক মুহূর্ত দেরিও সহ্য করার সুযোগ নেই, অথচ মাঝে মাঝে এক-দুই ঘণ্টা এমনকি কখনো একদিনও সমস্যা হয়। এই সমস্যা সমাধানে বিশ্বমানের একটি নতুন প্রযুক্তিনির্ভর কাস্টমস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম গড়ে তোলা হবে, যেখানে কোনো ডাউন টাইম থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, বন্দরের কার্যক্রম দ্রুত ও কার্যকর করার জন্য অফডক চালু করা হয়েছে। এর অপারেশনাল কার্যকারিতা নিয়ে সবার সঙ্গে বসে আলোচনা করা হবে। চট্টগ্রাম বন্দর, অফডক অপারেটর, প্রাইভেট অফডক, সিঅ্যান্ডএফ, চেম্বারসহ সব পক্ষ একত্রে বসে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানে এগিয়ে যাবে।
সভায় এনবিআর সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন, কাজী মোস্তাফিজুর রহমান, মুবিনুল কবির, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার শফি উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এসএম সাইফুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী সভায় আইসিডি-সংক্রান্ত নানা জটিলতার বিষয় তুলে ধরেন।
এনবিআর চেয়ারম্যানের বক্তব্যে উঠে আসে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা ও গতি বাড়াতে হলে সকল পক্ষকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করাই একমাত্র পথ।