রাউজানে সংঘর্ষের পর চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত, গিয়াস কাদেরের পদ স্থগিত।
চট্টগ্রামের রাউজানে মঙ্গলবার বিকেলে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের পর রাতে দলটির চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে রাত আটটার দিকে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বিষয়টি উত্তর জেলা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির এক যুগ্ম আহ্বায়ক নিশ্চিত করেছেন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং খুব শিগগিরই নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে। একইসঙ্গে একটি পৃথক চিঠিতে কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর পদ সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
২০২০ সালের ডিসেম্বরে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে গোলাম আকবর খন্দকারকে মনোনয়ন দিয়ে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয় । দীর্ঘ সাড়ে চার বছরেও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ সংঘর্ষের ঘটনায় এই কমিটি বিলুপ্ত করা হলো।
মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কের রাউজানের সত্তারহাট এলাকায় গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত বেশ কয়েকজন জন আহত হন। আহতদের মধ্যে গোলাম আকবর খন্দকার নিজেও রয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, তাঁর গাড়িবহরের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং তিনি ছররা গুলিতে আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষ ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি কেন্দ্র থেকে পাঁচজন নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তারা হলেন—নুরুল আমিন (বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক), গাজী নিজাম উদ্দিন (মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব), দিদারুল ইসলাম মিয়াজী (বারইয়ারহাট পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক), সিরাজুল ইসলাম ও কামাল উদ্দিন (যুবদল নেতা)। এদের সবাইকে দল থেকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
রাউজান থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, এক পক্ষ কবর জিয়ারতে এবং অন্য পক্ষ শোভাযাত্রায় অংশ নিচ্ছিল। সত্তারহাট এলাকায় দুই পক্ষের মুখোমুখি হলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং সংঘর্ষ বেধে যায়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও পরে তা স্বাভাবিক হয়।