সোমবার ২২শে জুন, ২০২৬

শুধু জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধে রাজি পুতিন, যুদ্ধবিরতিতে নয়

রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধের উদ্দেশে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিন বছর আগে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। ফোনে কথা বলার পর হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, দুই নেতা এই ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে রাজি। তবে এই যুদ্ধবিরতি হবে শক্তি ও পরিকাঠামো ক্ষেত্রে।

গতকাল মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) রাত ৮টার (বাংলাদেশ সময়) দিকে তারা ফোনে কথা বলা শুরু করেন। এই দুই নেতার মধ্যে টানা দুই ঘণ্টা আলাপ হয়।
তবে ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে তাৎক্ষণিক ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন, শুধুমাত্র জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর আক্রমণ বন্ধ করতে সম্মত হয়েছেন। সম্প্রতি সৌদি আরবে ইউক্রেনীয়দের সঙ্গে ট্রাম্পের দল যে মাসব্যাপী যুদ্ধবিরতিতে স্বাক্ষর করেছে তাতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন রাশিয়ার এই নেতা।

পুতিন বলেন, ইউক্রেনের সঙ্গে বিদেশি সামরিক সহায়তা এবং গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি বন্ধ হলেই কেবল একটি ব্যাপক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে। অন্যদিকে ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্ররা এর আগে এই ধরনের শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফ বলেছেন, ইউক্রেন নিয়ে মার্কিন আলোচনা রবিবার সৌদি আরবের জেদ্দায় অব্যাহত থাকার কথা রয়েছে। তিন বছরের এই যুদ্ধে রাশিয়া সম্প্রতি তার কুরস্ক অঞ্চলের কিছু অঞ্চল পুনরুদ্ধার করছে।

যা ছয় মাস আগে ইউক্রেনীরা আক্রমণ চালিয়ে দখল করেছিল।
মঙ্গলবারের ট্রাম্প-পুতিনের ফোনালাপের ফলাফল এক সপ্তাহ আগে মার্কিন অবস্থান থেকে পিছু হটার সামিল, যদিও দুই নেতা মধ্যপ্রাচ্যে অবিলম্বে আরো শান্তি আলোচনার জন্য একমত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার জেদ্দায় একটি মার্কিন প্রতিনিধিদল ইউক্রেনীয় প্রতিপক্ষের সঙ্গে দেখা করে। তখন তারা কিয়েভ স্থল, আকাশ এবং সমুদ্রপথে অবিলম্বে ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মত হয়েছিল।

এদিকে মঙ্গলবার ট্রাম্প ও পুতিনের ফোনালাপ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কিতে সরকারি সফরে পৌঁছান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

সেখানে তিনি বলেন, জ্বালানি অবকাঠামো হামলা না করার মতো যুদ্ধবিরতির ধারণার জন্য ইউক্রেন উন্মুক্ত, তবে প্রথমে আরো বিস্তারিত জানতে চান তিনি। পরে তিনি রাশিয়ায় ড্রোন হামলার পর যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করার অভিযোগ করেন পুতিনের বিরুদ্ধে।
গত সেপ্টেম্বরে জেলেনস্কি বলেছিলেন, ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোর প্রায় ৮০ শতাংশ রাশিয়ান বোমা হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে। অন্যদিকে কিয়েভও রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে, তেল ও গ্যাস সুবিধাগুলোতে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

জেদ্দায় গত সপ্তাহের আলোচনার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছিলেন, ‘বল এখন রাশিয়ার কোর্টে। তখন ইউক্রেনীয়রা পূর্ণ যুদ্ধবিরতির জন্য ওয়াশিংটনের প্রস্তাব গ্রহণ করেছিল। কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার ট্রাম্প-পুতিনের আহ্বানের পর হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে কিয়েভের সঙ্গে সেই চুক্তির কোনো উল্লেখ করা হয়নি। পরিবর্তে বলা হয়েছে, শান্তি চুক্তি একটি জ্বালানি ও অবকাঠামো যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শুরু হবে, তারপরে কৃষ্ণ সাগরে সামুদ্রিক যুদ্ধবিরতি, পূর্ণ যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তি নিয়ে আলোচনা হবে। দুই নেতা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন।

ক্রেমলিন জানিয়েছে, কৃষ্ণ সাগরে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে খুব দ্রুত আলোচনা শুরু হবে। পাশাপাশি বুধবার (১৯ মার্চ) রাশিয়া এবং ইউক্রেন ১৭৫ জন যুদ্ধবন্দি বিনিময় করবে এবং রাশিয়ায় চিকিৎসা নেওয়া ২৩ জন গুরুতর আহত ইউক্রেনীয় সৈন্যকে স্থানান্তর করা হবে। কিন্তু ক্রেমলিনের নিজস্ব বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের জন্য বিদেশি সহায়তা এবং গোয়েন্দা তথ্যের অবসান রাশিয়ার মূল শর্ত।

ক্রেমলিন এর আগে জানিয়েছিল, তারা ইউক্রেনে বিদেশি সামরিক সহায়তা বন্ধ দেখতে চায়। যুদ্ধের তীব্রতা থামানো এবং কূটনৈতিক উপায়ে যুদ্ধের অবসানের জন্য বিদেশি সামরিক সহায়তা বন্ধ করা সবচেয়ে জরুরি বলে মন্তব্য করেছিল রাশিয়া।

রাশিয়ার নেতা ইতিমধ্যেই ট্রাম্পের ইউক্রেনের প্রতি মার্কিন সহায়তা বন্ধ করার বিষয়ে স্বাদ পেয়েছেন। এই মাসের শুরুতে ওভাল অফিসে ট্রাম্প এবং জেলেনস্কির মধ্যে ঝগড়া হওয়ার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের সামরিক ও গোয়েন্দা সহায়তা সাময়িকভাবে স্থগিত করে। এদিকে ডাউনিং স্ট্রিটের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ট্রাম্প-পুতিনের ফোনালাপের পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কেয়ার স্টারমার জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলেছেন এবং যুক্তরাজ্যের অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

সূত্র : বিবিসি

Translate