কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশে যখন হোয়াইট কলার বা সাধারণ ডেস্কভিত্তিক চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তখন নিজেদের ক্যারিয়ার সুরক্ষিত রাখতে অদ্ভুত এক পথ বেছে নিচ্ছে তরুণ প্রজন্ম (জেন-জি)। ল্যাপটপ আর ডিগ্রির চেনা পথ ছেড়ে অনেক তরুণ এখন ওয়েল্ডিং টর্চ, পাইপ ফিটিং কিংবা মেকানিকের মতো কারিগরি পেশার দিকে ঝুঁকছেন। কম ঋণ, স্থায়িত্ব ও এআই দিয়ে সহজে কাজ স্বয়ংক্রিয় না করার সুবিধা এ সিদ্ধান্তকে ত্বরান্বিত করছে।
পিএইচসিসি এডুকেশনাল ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জন জিঙ্ক স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আমাদের এসব কাজের যে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে তা এআই নিতে পারবে না, কারণ এআই তো আর পাইপ চালাতে বা এইচভিএসি সিস্টেম বসাতে পারবে না।
উদাহরণ হিসেবে ২৫ বছর বয়সী অক্টাভিয়াস জ্যাকসনের কথা বলা যায়। তিনি দুবছর প্রেইরি ভিউ এ অ্যান্ড এমে পড়ার পর এভিয়েশন ইনস্টিটিউট অব মেইনটেন্যান্সে সার্টিফিকেটের জন্য ভর্তি হয়েছেন। তিনি বলেন, আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন না কোনও রোবট বিমান মেরামত করুক আর সামান্য ভুলে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটুক।
দক্ষিণ চীন সাগরে উত্তেজনা না বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের আহ্বানদক্ষিণ চীন সাগরে উত্তেজনা না বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের আহ্বান
একসময় চার বছরের ডিগ্রি না নিয়ে কারিগরি কাজ করাকে নিচু চোখে দেখা হলেও সেই সামাজিক ট্যাবুই এখন ভাঙছে। ক্যারিয়ার এডুকেশন কলেজ অ্যান্ড ইউনিভার্সিটিজের সিইও জেসন অল্টমায়ার বলেন, জেন-জির কারণে কারিগরি কাজের সেই দুর্নাম ঘুচছে। এছাড়া হোম রিপেয়ার কোম্পানি অ্যাঙ্গি’র মতে, ডিগ্রিধারীদের চেয়ে কারিগরি পেশার তরুণদের নিজস্ব ব্যবসা খোলার সুযোগ দ্বিগুণ। ফিলাডেলফিয়ার ফাদার জাজ হাই স্কুল থেকে গত বছর ওয়েল্ডিং কোর্স করা ২৪ জনের সবাই বছরে ৫০ হাজার ডলার বা তার বেশি বেতনের চাকরি পেয়েছেন।
তবে প্রযুক্তিভিত্তিক পরিবর্তন থেকে কারিগরি খাতও পুরোপুরি মুক্ত নয়। অত্যাধুনিক রোবটিক্স ইতোমধ্যে লেআউট ও সূক্ষ্ম পরিমাপের মতো কিছু নির্মাণকাজ করছে। আবার এআই প্রযুক্তি ফোন রিসিভ বা টেকনিশিয়ান পাঠাতে সাহায্য করছে। তবুও মূল কাজগুলোর জন্য এখনও মানুষের হাতের স্পর্শই জরুরি। মূলত ডেস্ক জবের চেয়ে বাস্তব বিশ্বের কোনও কিছু তৈরি বা মেরামত শিখাই এআই-এর যুগে সবচেয়ে ভালো নিরাপত্তা হতে পারে বলে মনে করছে জেন-জি।
সূত্র: অ্যাক্সিওস