শনিবার ১৩ই জুন, ২০২৬

রিজার্ভকে শক্তিশালী করা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানোই সরকারের লক্ষ্য : অর্থমন্ত্রী

রিজার্ভকে শক্তিশালী ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি সরকারের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

প্রশ্নে আবুল কালাম জানতে চান, আমদানি নিয়ন্ত্রণে নানা উদ্যোগের পরও ডলার পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না এবং বৈদেশিক লেনদেনের আর্থিক হিসাবে ঘাটতি বাড়ছে কিনা। এছাড়া ঘাটতি কমাতে আমদানি নিয়ন্ত্রণ ছাড়া সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, তাও জানতে চান তিনি।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে সঠিক নয়। বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে চাপ থাকলেও সরকারের সাম্প্রতিক নীতিগত পদক্ষেপের ফলে পরিস্থিতিতে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরছে। আমদানি ব্যবস্থাপনা, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, রফতানি আয় বাড়ানোর উদ্যোগ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে অর্থায়ন আলোচনা এক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, আমদানি নিয়ন্ত্রণই সরকারের একমাত্র কৌশল নয়। বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, রফতানি বহুমুখীকরণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, স্বল্পসুদী ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক অর্থায়ন আহরণ, মুনাফা ও মূলধন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং বিনিময় হারকে আরও বাজারভিত্তিক ও পূর্বানুমানযোগ্য করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিরুৎসাহিত করা হলেও উৎপাদন, কৃষি, জ্বালানি, শিল্প ও রপ্তানিখাতের প্রয়োজনীয় আমদানি যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমানো, রিজার্ভ শক্তিশালী করা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য টেকসইভাবে উন্নত করাই সরকারের লক্ষ্য।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে এবং বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ১২২ থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে অবস্থান করছে।

Translate