রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলের একটি আগ্নেয়গিরিতে ৫০০ বছরের বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে। রবিবার (৩ আগস্ট) ক্রাশেনিনিকভ নামের আগ্নেয়গিরিটিতে হঠাৎ অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে গত সপ্তাহের বিশাল ভূমিকম্পের সঙ্গে এটি সম্পর্কিত হতে পারে। গত সপ্তাহে রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
রাশিয়ার জরুরি সেবাবিষয়ক মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ক্রাশেনিনিকভ আগ্নেয়গিরির উচ্চতা ১ হাজার ৮৫৬ মিটার। অগ্ন্যুপাতের ফলে কামস্কটকা উপদ্বীপে অবস্থিত এই ক্রাশেনিনিকভ আগ্নেয়গিরিতে ছয় কিলোমিটার উঁচু ছাইয়ের কুণ্ডলী তৈরি হয়েছে। ছাইয়ের কুণ্ডলী পূর্ব দিকে প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে যাচ্ছে। এছাড়া আশপাশে কোনও জনবসতি না থাকায় আশঙ্কার কিছু নেই।
তবে রাশিয়ার জরুরি বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোর জন্যও কোন হুমকি নেই।
কামস্কটকা উপদ্বীপে গত বুধবার ৮ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। ১৯৫২ সালের পর ওই অঞ্চলে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প এটি।ওই ভূমিকম্পের ফলে ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়া এবং চিলি পর্যন্ত সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
ভূমিকম্পের পরপরই কামস্কটকায় সবচেয়ে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি ক্লুচেভস্কয়েতে অগ্ন্যুৎপাত হয়।
কামস্কটকা উপদ্বীপে ক্রাশেনিনিকভ ছাড়াও আরও কিছু আগ্নেয়গিরি রয়েছে। এসব আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাত হলে তা মোকাবিলার জন্য বিশেষ একটি সংস্থা রয়েছে। যার নাম কামস্কাটকা ভলকানিক ইরাপশন টিম। ওই টিম বা কামস্কটকা আগ্নেয়গিরি অগ্ন্যুৎপাত প্রতিক্রিয়া দলের প্রধান ওলগা গিরিনা জানিয়েছেন, ক্রাশেনিনিকভ আগ্নেয়গিরির শেষ অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছিল ১৫শ শতকে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরআইএ ওলগা গিরিনা আরও জানান,এটি আগের ৮.৮ মাত্রার ভূমিকম্পের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
রুশ বিশেষজ্ঞরাও সতর্ক করেছিলেন যে,বুধবারের ভূমিকম্পের পর কয়েক সপ্তাহ ধরে শক্তিশালী আফটারশক বা ভূকম্পন পরবর্তী কম্পন অনুভূত হতে পারে। এটি ছিল ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প। এর ফলে লাখ লাখ মানুষকে সরিয়ে নিতে হয়েছিল।
এছাড়া রবিবার কুরিল দ্বীপপুঞ্জে ৭.০ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর ফলে ১৮ সেন্টিমিটার উচ্চতার ঢেউ সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছিল রাশিয়ার জরুরি মন্ত্রণালয়।
কামস্কটকা উপদ্বীপে একটি দুর্গম অঞ্চল। এটি ‘প্যাসিফিক রিং অফ ফায়ারে’ অবস্থিত। অর্থাৎ এটি এমন এক এলাকা যেখানে প্রচুর ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।