বুধবার ১৫ই জুলাই, ২০২৬

মাঝআকাশে বিমানের জানালা ভেঙে বাইরে চলে গেলেন যাত্রী, পা ধরে যেভাবে বাঁচালেন স্ত্রী

গ্রিসের থেসালোনিকি থেকে জার্মানির মেমিংগেনের উদ্দেশ্যে ওড়ার মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে মাঝআকাশে রায়ানএয়ারের একটি বিমানের কেবিনের জানালা ভেঙে যাওয়ার চরম নাটকীয় ও রোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। জানালা ভেঙে কেবিনের বায়ুচাপ বা ডিকম্প্রেশন আকস্মিকভাবে কমে যাওয়ায় ল্যুবিসা কারোভিক নামে ৬১ বছর বয়সী এক যাত্রী মাথা নিচের দিকে করে জানালার বাইরে প্রায় বেরিয়ে যাচ্ছিলেন। সে সময় তার পা চেপে ধরে অলৌকিকভাবে তাকে বাঁচিয়েছেন তার স্ত্রী।

 

ভয়াবহ সেই অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী যাত্রীর স্ত্রী স্বেতলানা গ্রকোভিক মাকসিমোভিচ বিবিসি সার্বিয়াকে বলেন, আমার স্বামীর ডান কাঁধ এবং মাথা বিমানের বাইরে চলে গিয়েছিল। আমি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ওর পা দুটি শক্ত করে চেপে ধরি। আমি ভাবছিলাম, যদি আমরা মারা যাই, তবে একসাথেই মরবো। তিনি জানান, প্রায় দুই মিনিট ধরে এই চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর আরও দুজন যাত্রী এগিয়ে আসেন এবং সবাই মিলে তাকে টেনে ভেতরে ফিরিয়ে আনেন। ভেতরে আনার পর দেখা যায় তার পুরো মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে গেছে এবং নাক-মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছিল।

যাত্রীরা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কারোভিক সিটবেল্ট বেঁধে রেখেছিলেন, যা মাথা ও কাঁধ বিমানের বাইরে চলে যাওয়ার পরও বাকিদের তাকে ধরে রাখতে সাহায্য করেছে। মাকসিমোভিচ জানান, তার স্বামী গুরুতর আহত ও চরম আতংকে রয়েছেন। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং বর্তমানে কথা বলতে পারছেন না, এমনকি পুরো ঘটনাটিও তার মনে নেই। তার হাত বিশেষভাবে মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে এবং শরীরে পোড়ার ক্ষত রয়েছে।

 

মানসিকভাবে ভেঙে পড়া মাকসিমোভিচ বলেন, ও এখন বিমানের কথা শুনলেই কাঁপতে শুরু করে। আমিও খুব খারাপ মানসিক অবস্থার মধ্যে আছি। গতকাল একটি লিফটে ওঠার পর আমার হঠাৎ দমবন্ধ লাগছিল। এখন প্রশ্ন হলো, আমরা আর কোনোদিন বিমানে উঠবো কি না।

 

ক্রিস্টিনা নামে আরেক সহযাত্রী রেডিও থেসালোনিকিকে বলেন, আমরা তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারি যে কেবিনের বায়ুচাপ কমে গেছে। চারদিকে চিৎকার শুরু হয়। এক মুহূর্তের জন্য আমার মনে হয়েছিল কেউ হয়তো ভুল করে জরুরি দরজা খুলে ফেলেছে। সোফিয়া নামের আরেক যাত্রী বলেন, আমাদের মনে হয়েছিল বিমানটি ক্র্যাশ করছে। দম নেওয়া যাচ্ছিল না। আহত ওই ব্যক্তি রক্তাক্ত অবস্থায় ছিলেন এবং অক্সিজেন সংকট ও শকের কারণে বেশ কয়েকবার জ্ঞান হারান।

 

এ বিষয়ে রায়ানএয়ার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, থেসালোনিকি থেকে মেমিংগেনগামী শুক্রবার সকালের ফ্লাইটটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই মাঝআকাশে যাত্রীবাহী একটি জানালা স্থানচ্যুত হওয়ায় ফিরে আসে। বিমানটি স্বাভাবিকভাবে অবতরণ করে এবং যাত্রীদের টার্মিনালে ফিরিয়ে আনা হয়। থেসালোনিকিতে এক যাত্রী মাটিতেই চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। ১৮ বছর পুরোনো এই বিমানটি রায়ানএয়ারের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মাল্টা এয়ার দ্বারা পরিচালিত হচ্ছিল।

সূত্র: বিবিসি

Translate