ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের হরিদ্বারে একটি জনপ্রিয় হিন্দু মন্দিরে ভিড়ের চাপে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন পূণ্যার্থী। রবিবার হরিদ্বার শহরের মানসা দেবী মন্দিরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মন্দির চত্বরে একটি বৈদ্যুতিক তার পড়ে গেলে হঠাৎ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এতে পালাতে গিয়ে হুড়োহুড়ি শুরু হয় এবং পদদলিত হয়ে প্রাণহানি ঘটে।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা ঋতেশ সাহা টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, তারের পতনের দৃশ্য দেখে সঙ্গে সঙ্গেই মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। সবাই একসঙ্গে পালাতে চাইলে হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হয়।
উত্তরাখণ্ড সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিনয় শঙ্কর পাণ্ডে ছয়জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে। বাকিরা পদদলিত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।
দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ও জরুরি সেবা দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। অন্তত ৩৫ জন আহত ব্যক্তিকে কাছের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে ফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাণ্ডে বলেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। তবে তার পড়ে যাওয়ার পর যে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল, সেটিই এই মর্মান্তিক ঘটনার মূল কারণ।
কীভাবে বৈদ্যুতিক তারটি ছিঁড়ে পড়লো, তা খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে, ভিড় নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি এক্স-এ এক পোস্টে লিখেছেন, হরিদ্বারের মানসা দেবী মন্দিরের পথে পদদলিত হয়ে মৃত্যুর খবর অত্যন্ত মর্মান্তিক।
মানসা দেবী মন্দির উত্তর ভারতের অন্যতম বিখ্যাত তীর্থস্থান। প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ ভক্ত সেখানে যান পূজা দিতে।
ভারতে ধর্মীয় জমায়েতে এ ধরনের ভিড়ের চাপে মৃত্যুর ঘটনা নতুন নয়। বড় মন্দির ও ধর্মীয় উৎসবে বিপুল মানুষ সমবেত হওয়ায় প্রায়ই স্থানীয় নিরাপত্তা ও অবকাঠামো চাপে পড়ে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ জেলায় কুম্ভমেলার সময় পদদলিত হয়ে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়। গত মে মাসে গোয়ায় ছয়জনের মৃত্যু হয়। আর জুনে ওড়িশায় এক ধর্মীয় উৎসবে ভিড়ের চাপে প্রাণ যায় তিনজনের।