বিশ্বের সবচেয়ে বৃষ্টিবহুল এলাকাতেও বাড়ছে খরার ঝুঁকি

বিশ্বের সবচেয়ে বৃষ্টিবহুল অঞ্চল হিসেবে পরিচিত ভারতের মেঘালয়ের মৌসিনরাম ও চেরাপুঞ্জি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভারি বৃষ্টিপাত, বৃষ্টিস্নাত দিনের সংখ্যা হ্রাস এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে এখন সেখানেও খরার ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। সম্প্রতি থিওরিটিক্যাল অ্যান্ড অ্যাপ্লায়েড ক্লাইমেটোলজি সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণায় ১৯৮১ থেকে ২১০০ সাল পর্যন্ত মেঘালয় ও সংলগ্ন এলাকার জলবায়ু ও জলপ্রবাহের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষক অশেষ রুদ্র পাল এবং পঙ্কজ কুমার রায় জানান, কম বৃষ্টিপাতের দিন এবং মোট বৃষ্টির দিনের সংখ্যা দিন দিন কমে আসছে, অন্যদিকে স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টির মাত্রা বাড়ছে। ফলে মাঝারি, তীব্র ও চরম খরার ঝুঁকি বাড়ছে।

গবেষকদের মতে, বর্ষায় অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে খরা কমে, এমন সাধারণ ধারণার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে মেঘালয়ে। ভূপ্রকৃতি খাড়া হওয়া এবং মাটির গভীরতা কম থাকায় তীব্র বৃষ্টির পানি দ্রুত গড়িয়ে চলে যায়, মাটিতে শোষিত হয়ে ভূগর্ভস্থ পানি রিচার্জ করার সুযোগ পায় না। একই সঙ্গে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বছরে ০.০৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় বাষ্পীভবন বাড়ছে, যা মাটির আর্দ্রতা দ্রুত শুকিয়ে দিচ্ছে।

এই পরিবর্তন নদীপ্রবাহেও প্রতিফলিত হচ্ছে। মেঘালয় থেকে সৃষ্ট শারি-গোয়াইন এবং সুরমা-মেঘনা নদী অববাহিকায় দূর ভবিষ্যতে বার্ষিক গড় নদীপ্রবাহ যথাক্রমে ৯.৮ শতাংশ এবং ১১.৬ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলে মডেলে আভাস দেওয়া হয়েছে। গবেষণায় বলা হয়, বিজ্ঞানী, নীতিনির্ধারক এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সহযোগিতা অপরিহার্য।

স্থানীয় বাসিন্দারাও ইতোমধ্যে পানি সংকটের লক্ষণ দেখছেন। সোহরা অঞ্চলের এক গেস্ট হাউস মালিক পি হুজোন বলেন, সোহরা এলাকার অনেক ঝরনা শুকিয়ে যাচ্ছে এবং আমি চলতি সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকেই এটি দেখতে পাচ্ছি।

যদিও এই গবেষণায় বন উজাড়, নগরায়ণ বা অতিরিক্ত পানি উত্তোলনের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, তবুও গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন যে শুধু মোট বৃষ্টির পরিমাণের ওপর নির্ভর না করে বৃষ্টির তীব্রতা, বণ্টন এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধির বিষয়গুলোকে বিবেচনায় রেখে সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

Translate