মঙ্গলবার ৫ই মে, ২০২৬

বিজেপির উদযাপনে লাড্ডুর বদলে রবীন্দ্রসংগীত আর ঝালমুড়ি

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বড় জয়ের পথে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সোমবার রাজ্য বিজেপির সদর দফতরে উদযাপনে ভিন্ন এক আমেজ দেখা গেছে। সাধারণ লাড্ডুর বদলে এবার উদযাপনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বাঙালির প্রিয় ‘ঝালমুড়ি’ আর নেপথ্যে বেজেছে ‘রবীন্দ্রসংগীত’।

গত ২৯ এপ্রিল ঝাড়গ্রামে নির্বাচনি সমাবেশের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক প্যাকেট ঝালমুড়ি কেনায় বিষয়টি রাজনৈতিক তাৎপর্য পায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করলেও বিজেপি নেতারা বিষয়টিকে বাঙালির খাদ্যাভ্যাসের প্রতি মোদির শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম ও বর্ধমানের মতো জেলাগুলোতে মুড়ি একটি প্রধান খাবার। বিজেপির দাবি, মোদির ওই ‘ঝালমুড়ি কূটনীতি’ বাঙালির মনে নাড়া দিয়েছে।

বিজেপি সাধারণত যেকোনও বিজয় লাড্ডু দিয়ে উদযাপন করলেও এবার নজিরবিহীনভাবে ঝালমুড়ি পরিবেশন করা হয়েছে। রাজ্য সদর দফতরে দেখা যায়, কর্মীরা প্যাকেটজাত মুড়ির পাশাপাশি চানাচুর মিশিয়ে ঝালমুড়ি তৈরি করে সাংবাদিক ও নেতাদের পরিবেশন করছেন। এক সর্বভারতীয় বিজেপি নেতা সাংবাদিকদের মুড়ি দিয়ে আপ্যায়ন করে বলেন, সন্দেশ-রসগোল্লা তো থাকেই, কিন্তু সম্ভবত এবারই প্রথম ঝালমুড়ি দিয়ে বিজয় উদযাপন হচ্ছে।

খাবারের তালিকায় কেবল ঝালমুড়িই নয়, ছিল মাছের ঝোল ও ভাতও। নির্বাচনি প্রচারের সময় তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ তুলেছিল যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাঙালির পাতে মাছ জুটবে না। এক বিজেপি নেতা বলেন, মানুষ বুঝেছে ওটা মিথ্যা প্রচারণা ছিল। পরিকল্পনা করে না হলেও, কর্মীদের জন্য মাছের আয়োজন করা একধরনের বার্তাও বটে।

খাবারের পাশাপাশি উদযাপনের সুরও ছিল পুরোপুরি বাঙালি। সল্টলেকের বিজেপি কার্যালয়ের বাইরে কর্মীরা ‘পরিবর্তন যাত্রা’ বা ‘চাই বিজেপি সরকার’ গানে নাচলেও কার্যালয়ের ভেতরে শোনা গেছে রবীন্দ্রসংগীত।

বেলা তখন ১১টা, বিজেপি ১৬৫টি আসনে এগিয়ে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব, বিপ্লব দেব, শিশির বাজোরিয়া ও শমীক ভট্টাচার্যরা যখন নির্বাচনি ফলাফল নিয়ে আলোচনায় ব্যস্ত, তখন ভূপেন্দ্র যাদবের অনুরোধে বাজানো হয়, ‘মুক্ত করো ভয়’। ঘরের ভেতর প্রতিধ্বনিত হতে থাকে বিশ্বকবির সেই কালজয়ী লাইন, ‘মুক্ত করো ভয়, আপনা মাঝে শক্তি ধরো, নিজেরে করো জয়।’

এই গান নির্বাচনের সময় নরেন্দ্র মোদির দেওয়া ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’ স্লোগানের সঙ্গেও মিলে যায়। কেবল ওই কক্ষেই নয়, সল্টলেক কার্যালয়ের প্রতিটি সাউন্ড সিস্টেমে এদিন একের পর এক রবীন্দ্রসংগীত বাজতে শোনা গেছে।

সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া

Translate