বান্দরবানের রুমায় হামের উপসর্গে তিন শিশুর মৃত্যু

বান্দরবানে রুমা উপজেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ দিনে শিশুর মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয় জনে। আরও ১৪ জন শিশু রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন আছে।

 

শনিবার (২৬ জুলাই) ভোর থেকে বিকেলের মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়।

 

লিনতং খুমী পাড়ার বাসিন্দা হইতং খুমী জানান, গতকাল শনিবার ভোরে নয় বছর বয়সী পলি খুমী এবং ছয় বছর বয়সী নাতয়ই খুমী হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যায়। একই দিনে বিকাল সাড়ে চারটার দিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পাড়া থেকে আরো তিনজন শিশুকে রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা উদ্দেশ্যে নেওয়ার পথে প্রেটংএং খুমী নামে আরো এক শিশু মারা যায়। এ তিনজনসহ গত ১৫ দিনে একই উপসর্গে মোট ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

 

হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত শিশুরা হল—ফ্রেলেএং খুমী, খ্রেপা খুমী, শইফ্রা খুমী, খ্রেটেমএং খুমী, পলিএং খুমী এবং প্রেটেমএং খুমী। এদের সবার বয়স ৫-১২বছর।

 

স্থানীয়রা জানায়, দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে অসুস্থ শিশুদের দ্রুত হাসপাতালে আনা সম্ভব হচ্ছে না।

 

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ভ্যাকসিনেটর উ থোয়াই সিং মারমা বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নির্দেশে গতকাল ২৫ জুলাই লেতং খুমী পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি ঘরেই শিশুদের মধ্যে হামের উপসর্গ রয়েছে। অনেক পরিবার আধুনিক চিকিৎসার পরিবর্তে গাছ-গাছড়া ও ভেষজ উপায়ে চিকিৎসা করানোর চেষ্টা করছে।’

 

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন (এক থেকে ছয় বছর বয়সী) শিশুকে হামের টিকা দিয়েছি। টিকাদানের সময় তিনজন শিশুকে সংকটাপন্ন অবস্থায় দেখতে পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিই। পরে হাসপাতালে আনার পথে একজন শিশুর মৃত্যু হয়।’

 

রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল হাসান বলেন, ‘দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হামের উপসর্গের প্রকোপ বেড়েছে এবং শিশু মৃত্যুর খবর সহকর্মীদের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে। পাহাড়ি দুর্গম এলাকার কারণে রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে আনা সম্ভব হয় না। খবর পাওয়ার পরই স্বাস্থ্যকর্মীদের সেখানে পাঠানো হয়েছে। তারা ফিরে এলে পরিস্থিতির বিস্তারিত জানা যাবে।’

 

তিনি আরও বলেন, সুস্মিতা তালুকদার নামে একজন স্বাস্থ্য কর্মী ওই এলাকায় দায়িত্বে আছেন। দুর্গম এসব পাড়াগুলোতে নিয়মিত ভিজিট করে টিকা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য অনেকবার বলেছি। তিনি বান্দরবান সদরেই থাকেন। যখনি ফোন দেওয়া হয় তখনি- হয় মা, না হয় পরিবারের অন্য কেউ অসুস্থ বলেন।’

 

দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি ম্রো ও খুমী সম্প্রদায়ের কিছু পরিবারের টিকা গ্রহণে অনীহাও শিশুদের টিকাদান থেকে বাদ পড়ার একটি কারণ বলেও জানান তিনি।

Translate