বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়, গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চায়।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকালে রাজধানীর ৩০০ ফিটে সংবর্ধনা মঞ্চে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিকাল ৩টা ৫৮ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন তারেক রহমান। শুরুতেই তিনি বলেন, “প্রথমেই আমি রাব্বুল আলামিনের দরবারে হাজারো লক্ষ-কোটি শুকরিয়া আদায় করছি, অশেষ রহমতে প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে আসতে পেরেছি আপনাদের মাঝে।”
প্রথমে তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের কথা স্মরণ করেন। এরপর ১৯৭৫ সালের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের কথা উল্লেখ করেন।
তারেক রহমান নব্বইয়ের গণআন্দোলনের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একাত্তরের মতো এ দেশের ছাত্র-জনতাসহ সর্বস্তরের মানুষ—কৃষক, শ্রমিক, নারী-পুরুষ, মাদ্রাসার ছাত্রসহ পেশা ও শ্রেণিনির্বিশেষে সবাই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভূমিকা রেখেছিল।”
তারেক রহমান বলেন, “সবাই মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলব আমরা, যা একজন মা দেখেন। অর্থাৎ একটি নিরাপদ বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই। যে বাংলাদেশে একজন মানুষ নিরাপদে ঘর থেকে বের হতে পারে ও ঘরে ফিরে আসতে পারে।”
তিনি বলেন, “আমাদের সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়ার। এ দেশে পাহাড়ের, সমতলের, মুসলমান, হিন্দু বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই আছে। আমরা নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। যে বাংলাদেশে একজন নারী, পুরুষ, শিশু যেই হোক না কেন নিরাপদে ঘর থেকে বের হলে, যেন নিরাপদে ফিরতে পারে।”
তরুণ প্রজন্মই আগামীতে দেশ গড়ে তুলবে উল্লেখ করে গণতান্ত্রিক, শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দেশকে গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।
তিনি পরপর তিনবার বলেন “আমরা দেশের শান্তি চাই”।
এর আগে বিকাল ৩টা ৫১ মিনিটে মঞ্চে ওঠেন তারেক রহমান।
তারেক রহমান সংবর্ধনাস্থলে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে জনসমুদ্রে পরিণত হওয়া ৩০০ ফিট স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে। তারেক রহমান হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের অভিবাদন গ্রহণ করেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও হাফিজ উদ্দিন আহমেদসহ কেন্দ্রীয় নেতারা সেখানে উপস্থিত রয়েছেন।
এর আগে, দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে তিনি বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে একটি বিশেষ বাসে করে ৩০০ ফিটের উদ্দেশে রওনা দেন। দলীয় নেতাকর্মীরা রাস্তার দুধারে হাত নেড়ে তাকে স্বাগত জানান। ৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিট পর মঞ্চে পৌঁছান তারেক রহমান।
তার আগে, দুপুর ১১টা ৪৫ মিনিটে শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমানটি। এর মাধ্যমে দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরলেন তারেক রহমান।
ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে তারেক রহমানকে প্রথমে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ও স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে একে একে আলিঙ্গন করেন। এছাড়া উপস্থিত নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তিনি।
এরপর তারেক রহমানকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করেন তার শাশুড়ি। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান এবং দেশে থাকা পরিবারের অন্য সদস্যরা।
বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে দলের নেতাদের নিয়ে ৩০০ ফিটে রওনা দেন তারেক রহমান। এর আগে অন্য একটি গাড়িতে করে বিমানবন্দর থেকে বের হন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও একমাত্র সন্তান জাইমা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা। তার গুলশানের বাসভবনে গেছেন।
৩০০ ফিট থেকে তারেক রহমান এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন।
এর আগে সকাল ৯টা ৫৬ মিনিটে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমানটি সিলেট ওসামানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে এক ঘণ্টা বিরতির পর ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে বিমানটি।
উল্লেখ্য, তারেক রহমানকে বহনকারী বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিজি-২০২ ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়।