নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশ ব্যবসায়ী মোতালেব হোসেন (৬১) হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি জাকিরসহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দিবাগত রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন– মাসদাইর এলাকার জিন্নাহর ছেলে জাকির (৫০), রানার ছেলে ওমর ফারুক (২২) এবং মৃত মজিদ মিয়ার ছেলে সোহেল (৪৯)। তাদের কাছে থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অটোরিকশা, নিহতের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ক্যাশ আউট করা ৮৬ হাজার টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন এবং একটি টিফিন বক্স উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে ফতুল্লার মাসদাইর এলাকার জামতলা হাজী ব্রাদার্স রোডের এমপি গলি সংলগ্ন সড়কের পাশ থেকে তোশকে মোড়ানো অবস্থায় বিকাশ ব্যবসায়ী মোতালেব হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মরদেহ উদ্ধারের পরপরই তদন্ত শুরু করা হয়। আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আসামি জাকির নিহত মোতালেব হোসেনের কাঁধে হাত রেখে তাকে নিজের বাসার দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। পরে ঘটনার দিন (বৃহস্পতিবার) ভোরে অটোরিকশায় করে ওই পথ ধরে তোশক মোড়ানো কিছু একটা বের করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর পেছন পেছন দুজন ব্যক্তি রাস্তার দিকে ছুটে যাচ্ছেন।
এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বন্দর থানার সেল সারদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাকিরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আর মাসদাইর রোকেয়া স্কুল সংলগ্ন জাকিরের বাসায় অভিযান চালিয়ে নিহতের ব্যবহৃত টিফিন বক্স উদ্ধার করা হয়। পরে মাসদাইর এলাকা থেকে ওমর ফারুক ও সোহেল নামে আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাকির হত্যার দায় স্বীকার করে পুলিশকে জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৮টা থেকে জাকির রাস্তায় অপেক্ষা করছিলেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মোতালেব হোসেন হেঁটে আসলে কৌশলে তাকে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান জাকির। সেখানে তার বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ৮৬ হাজার টাকা ক্যাশ আউট করার পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে ভোরের দিকে মরদেহ তোশকে পেঁচিয়ে অটোরিকশাযোগে এনে ফেলে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে সুমনা আক্তার মিম বাদী হয়ে ছয় জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও দুই থেকে তিন জনকে আসামি করে ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। নিহত মোতালেব হোসেন লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার শিবপুর এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফতুল্লার মাসদাইর গোরস্থান এলাকায় একটি বাসায় বসবাস করতেন। তিনি মাসদাইর বাজারে স্টেশনারি দোকান ও বিকাশ এজেন্টের ব্যবসা পরিচালনা করতেন।
ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ ঘটনায় মূল হোতাসহ তিন জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আসামি জাকির হত্যার কথা স্বীকার করেছে। মূলত টাকা লেনদেন সংক্রান্ত ঝামেলা থেকে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’