দেশব্যাপী শুরু হওয়া বহুল প্রতীক্ষিত ‘নতুন কুঁড়ি’ ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় নিবন্ধনে দেশের সব জেলাকে পেছনে ফেলে রেকর্ড অর্জন করেছে চট্টগ্রাম। এই জেলায় এবার রেকর্ড ১ লাখ ৮১ হাজার ১৪০ জন প্রতিযোগী নিবন্ধন করেছে, যা দেশের অন্য যেকোনো জেলার তুলনায় ব্যবধানে বহুলাংশে এগিয়ে। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা রাজধানী ঢাকায় নিবন্ধন করেছে ৫৯ হাজার ৫৮০ জন। অর্থাৎ, শুধু ঢাকার সঙ্গেই চট্টগ্রামের ব্যবধান ১ লাখ ২১ হাজার ৫৬০ জন যা ঢাকার মোট নিবন্ধনের তিন গুণেরও বেশি। এছাড়া দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে থাকা ঢাকা এবং কুমিল্লার (৫১ হাজার ৮৪৮ জন) সম্মিলিত ১ লাখ ১১ হাজার ৪২৮ জন নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর চেয়েও চট্টগ্রামে ৬৯ হাজার ৭১২ জন বেশি প্রতিযোগী অংশ নিচ্ছেন। প্রতিযোগিতাটি নিয়ে ব্যাপক আশাবাদ ব্যক্ত করে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম বলেছেন, নতুন কুঁড়ি ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমরা ইতিহাস গড়ব।
চট্টগ্রামের এই সাফল্যের পেছনে স্থানীয় তরুণদের খেলাধুলার প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহের পাশাপাশি জেলা প্রশাসন ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সুপরিকল্পিত প্রচারণার বড় ভূমিকা রয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম বলেন, আমাদের জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং জেলা ক্রীড়া অফিসারদের নিরলস প্রচার ও প্রচেষ্টার কারণে এই অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছে। চট্টগ্রামে খেলাধুলার অনেক আয়োজন থাকে এবং জাতীয় পর্যায়েও সেখান থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসে। সাফল্যের পেছনের কৌশল তুলে ধরে জেলা ক্রীড়া অফিসার আবদুল বারী জানান, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সার্বিক নেতৃত্ব ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিনের সহযোগিতায় শুরু থেকেই তৃণমূল পর্যায়ে জোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়। জুম সভা ও সরাসরি বৈঠকের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং স্কুল প্রধানদের সঙ্গে ধারাবাহিক সমন্বয় করা হয়। এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়েও কমিটি গঠন করে এই কার্যক্রম বিস্তৃত করা হয়েছিল।
নিবন্ধনের এই জোয়ার তৈরি করতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, গণমাধ্যম এবং সরকারি তথ্য অফিসের সহায়তা নেওয়া হয়। স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালান স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকেরা। পাশাপাশি তথ্য অফিসের মাধ্যমে ইউনিয়ন থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রতিযোগিতার বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়।
নতুন কুঁড়ি ক্রীড়া প্রতিযোগিতার জেলাভিত্তিক নিবন্ধনে শীর্ষ ১০ এর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে চট্টগ্রাম (১,৮১,১৪০ জন), দ্বিতীয় স্থানে ঢাকা (৫৯,৫৮০ জন), তৃতীয় স্থানে কুমিল্লা (৫১,৮৪৮ জন), চতুর্থ স্থানে বরিশাল (৫১,৫৮০ জন) এবং পঞ্চম স্থানে পটুয়াখালী (৪৯,৫৬৫ জন)। এছাড়া তালিকার ষষ্ঠ থেকে দশম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে দিনাজপুর (৪১,৬৯৯ জন), সিলেট (৪০,৫৩৬ জন), ময়মনসিংহ (৪০,০৫৪ জন), কক্সবাজার (৩৬,৫৪৬ জন) এবং বগুড়া (৩৪,৯৬৮ জন)।
গত আসরে ৮টি ইভেন্ট থাকলেও নতুন আসরে আরও ২টি যুক্ত করে মোট ১০টি ইভেন্টে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। বালক ও বালিকা উভয় বিভাগের এই ইভেন্টগুলো হলো ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস, মার্শাল আর্ট এবং টেবিল টেনিস। প্রাথমিকভাবে ইউনিয়ন পর্যায়ে দল গঠনের পর উপজেলা এবং পরবর্তী ধাপে বৃহত্তর পরিসরে প্রতিযোগিতাগুলো অনুষ্ঠিত হবে।