ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মামলার নতুন আইনগত পরিবর্তন
সরকার ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মামলার দ্রুত তদন্ত ও বিচারের জন্য বিদ্যমান আইনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। আজ রবিবার আইন মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম।
তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার পরিবর্তন
নতুন আইনে ধর্ষণের মামলার তদন্তের সময়সীমা ৩০ দিন থেকে কমিয়ে ১৫ দিন করা হচ্ছে। পাশাপাশি, মামলার বিচার ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করার বিধান সংযোজন করা হচ্ছে। বর্তমান আইনে ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার না হলে জামিনের সুযোগ থাকলেও নতুন আইনে এই বিধান বাতিল করা হচ্ছে।
আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানান, আগে তদন্ত কর্মকর্তা ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে না পারলে পরিবর্তন করা হতো, যা বিচার প্রক্রিয়ায় বিলম্ব ঘটাত। নতুন আইন অনুযায়ী, তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তদন্ত শেষ করতে হবে।
ডিএনএ সনদের পরিবর্তে চিকিৎসা সনদের ব্যবহার
বর্তমানে ধর্ষণের মামলায় ডিএনএ সনদ প্রয়োজন হলেও দেশে এ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই সংশোধনীতে বিচারক প্রয়োজন মনে করলে শুধুমাত্র চিকিৎসা সনদের ভিত্তিতেও তদন্ত ও বিচারকাজ পরিচালনা করতে পারবেন।
আইন প্রয়োগে কঠোর ব্যবস্থা
ধর্ষণের মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় যদি কোনো কর্মকর্তা গাফিলতি করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট বিধান সংযোজন করা হবে।
মাগুরার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত পদক্ষেপ
মাগুরায় আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় সারা দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার দ্রুত আইন পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলো এই মামলার তদন্ত ও বিচারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
সরকার আশা করছে, এই নতুন আইনগত পরিবর্তনের ফলে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মামলায় বিচার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।