মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার মনোনীত দূতদের পাকিস্তান সফর বাতিল করলেও, যুদ্ধবিরতি আলোচনার লক্ষ্যে আবারও পাকিস্তানে ফিরেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরঘচি। রবিবার তিনি এই সফরে পৌঁছান। যুদ্ধের অবসানে ইরানের অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরতেই তার এই সফর। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এ খবর জানিয়েছে।
এর আগে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার পাকিস্তানে গিয়ে আলোচনায় অংশ নেবেন। তবে পরে ট্রাম্প ফক্স নিউজকে জানান, তিনি এই সফর বাতিল করেছেন। তবে তিনি জানান, তার এই সিদ্ধান্তের কয়েক মিনিটের মধ্যেই ইরান তাদের প্রস্তাব সংশোধন করে আরও ভালো একটি নথি পাঠিয়েছে। এই সফর বাতিল মানেই যুদ্ধে ফিরে যাওয়া কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘না, এর মানে তা নয়। আমরা এখনও সে কথা ভাবিনি।’
শনিবার রাতে ওয়াশিংটন হিলটনে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নৈশভোজ চলাকালীন গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘এটি আমাকে ইরানের যুদ্ধ জয়ের পথ থেকে বিচ্যুত করবে না।’ তিনি জানান, সিক্রেট সার্ভিসের এক এজেন্ট গুলির শিকার হলেও বুলেটপ্রুফ ভেস্টের কারণে বেঁচে গেছেন। ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে সন্দেহভাজন হামলাকারীর ছবিও শেয়ার করেছেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং সামরিক প্রধান আসিম মুনীরের সঙ্গে বৈঠকের পর আরাঘচি ওমানের সুলতান হাইসাম বিন তারিক আল-সাঈদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও যুদ্ধ অবসানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে তারা আলোচনা করেন। আরাঘচি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি নিরাপত্তা ও বিভাজন তৈরি করছে। তিনি বাইরের হস্তক্ষেপমুক্ত আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
তবে ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্য নিয়ে আরাঘচি সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই কূটনীতির বিষয়ে আন্তরিক কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।’ এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে স্পষ্ট করেছে যে, হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার কোনও ইচ্ছা তাদের নেই। তারা জানায়, ‘হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করা এবং আমেরিকার ওপর এর প্রভাব বজায় রাখাই ইসলামিক ইরানের চূড়ান্ত কৌশল।’
একদিকে আলোচনা ও উত্তেজনা, অন্যদিকে লেবাননে যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রবিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় আরও তিনজন নিহত হয়েছেন। নাবাতিহ, বিনতে জেবেল ও সোর জেলায় এই বিমান হামলা চালানো হয়।
১৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই ইসরায়েল বারবার লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২ মার্চ থেকে চলমান ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৪৯৬ জনে দাঁড়িয়েছে এবং অন্তত ৭ হাজার ৭২৫ জন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের ভেতরে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে (হলুদ রেখা) রেখে বাসিন্দাদের সেখানে ফিরতে বাধা দিচ্ছে এবং লিতানি নদীসহ বিভিন্ন এলাকায় বেসামরিক নাগরিকদের প্রবেশের ক্ষেত্রে সতর্কবার্তা দিয়ে লিফলেট ছড়িয়েছে।