বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি থানচি উপজেলায় হাম-রুবেলা রোগে আক্রান্ত হয়েছে অন্তত ৮৪ জন শিশু। তারা সবাই স্কুলে পড়ুয়া শিক্ষার্থী।
রেমাক্রী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান থেকে প্রাপ্ত খবরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ঋতু পর্না চাকমা ও সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক জ্যোতি প্রিয় চাকমাকে প্রধান করে ৫ জনের মেডিকেল টিম আক্রান্ত এলাকাগুলোতে জরুরিভাবে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডাঃ মোহাম্মদ হাসিবুল।
যোগাযোগ করা হলে রেমাক্রী ইউনিয়নের ওয়ার্ড মেম্বার মাংচং ম্রো বলেন, হাম রুবেলা উপসর্গ নিয়ে পার্শ্ববর্তী আলীকদম উপজেলার কুরুপপাতা এলাকা থেকে কয়েকজন শিক্ষার্থী ছুটিতে বাড়ি আসায় স্বল্প সময়ে রোগটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্তদের শরীরে জ্বর, গায়ে ফুসকুড়ি, দুর্বলতা ও অসুস্থতা দেখা দিয়েছে।
তিনি দাবী করে বলেন, মায়ানমার সীমান্তবর্তী লিটক্রে থানচি সদর হতে লিটক্রে প্রাই ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণের অবস্থিত একমাত্র সাংগু নদীর পথে যাতায়াত ব্যবস্থা। তাই ইঞ্জিন বোটের মাধ্যমে দুইদিন সময় লাগে। সেখানে অস্থায়ী চিকিৎসা ক্যাম্প স্থাপন করে আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া সবচেয়ে উত্তম হবে।
যোগাযোগ করা হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ বলেন, গত কয়েকদিন আগে থানচি সদর-এ অবস্থিত আশার আলো ও থানচি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই ছাত্রাবাস থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে ৫ জন শিশু ও নারী হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাদের মধ্যে একজন ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীও ছিল। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে আজ রোববার দুপুরে তাদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
তিনি আর ও বলেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ঠ দুই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, স্বাস্থ্য বিভাগসহ সবার সমন্বয় মাধ্যমে আক্রান্ত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী চিকিৎসা ক্যাম্প স্থাপন এবং টিকাদান জোরদারের বিষয়ে আলোচনা চলছে। সমন্বয় হলে আমরা দ্রুত এর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।