মঙ্গলবার ২১শে এপ্রিল, ২০২৬

থাইল্যান্ডে এবার মহাসড়কে ক্রেন ধসে নিহত ২

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে একটি ব্যস্ত মহাসড়কের ওপর নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত ক্রেন ধসে দুইজন নিহত হয়েছেন। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে এটি দেশটিতে দ্বিতীয় প্রাণঘাতী ক্রেন দুর্ঘটনা, যা নির্মাণ খাতে নিরাপত্তা মানদণ্ড নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এ খবরটি জানিয়েছে।

সামুত সাখন এলাকার ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ক্রেনটি ভেঙে পড়ে নিচে চলাচলরত যানবাহন গুড়িয়ে দেয়। দুর্ঘটনার সময় চারপাশে ঘন ধুলা ও ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে। এর একদিন আগেই দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নাখন রাতচাসিমা প্রদেশে আরেকটি ক্রেন দুর্ঘটনায় ৩২ জন নিহত এবং ৬০ জনের বেশি মানুষ আহত হন।

সামুত সাখনের ক্রেনটি একটি এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের অংশ ছিল, যা পরিচালনা করছে থাইল্যান্ডের অন্যতম বৃহৎ নিরর্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ইতালিয়ান থাই ডেভেলপমেন্ট। বুধবারের নাখন রাতচাসিমা এলাকার ক্রেন দুর্ঘটনাতেও একই কোম্পানির একটি প্রকল্পে চলন্ত ট্রেনের ওপর ক্রেন পড়ে যায়।

থাইল্যান্ডের স্টক এক্সচেঞ্জে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইতালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট নিহত ও আহতদের পরিবারগুলোর প্রতি “গভীর সমবেদনা” জানায়। প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিপূরণ প্রদানের পূর্ণ দায় স্বীকার করে এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ শুরু করার কথা জানায়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর ও জোরদার করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়।

সাম্প্রতিক এই দুর্ঘটনাগুলো থাইল্যান্ডে নির্মাণ খাতে দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। নিয়ম-কানুনের দুর্বল প্রয়োগের কারণে দেশটিতে এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে। ব্যাংককের দক্ষিণাঞ্চলে একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে গত সাত বছরে প্রায় ১৫০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

যে এক্সপ্রেসওয়েতে সর্বশেষ ক্রেন ধসের ঘটনা ঘটেছে, সেটি অতীতের একাধিক দুর্ঘটনার কারণে স্থানীয়ভাবে ‘ডেথ রোড’ নামে পরিচিত। থাই প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল বলেন, নির্মাণকাজে অবহেলা বরদাশত করা হবে না। তিনি সংশ্লিষ্ট চুক্তি বাতিল, ইতালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্টকে কালো তালিকাভুক্ত করা এবং কোম্পানিটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

Translate