মঙ্গলবার ২১শে এপ্রিল, ২০২৬

ঢাকায় অপরাধ দমনে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান চলছে: ডিএমপি কমিশনার

রাজধানীতে ছিনতাই ও চাঁদাবাজির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে। পুলিশের সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, সিটিটিসি, এটিইউ, বিজিবি ও অন্যান্য সংস্থার সমন্বয়ে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে বিজয় সরণীতে ঢাকা মহানগরের বিশেষ অভিযান পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি।

ডিএমপি কমিশনার জানিয়েছেন, রাজধানীতে অপরাধ দমনে চিহ্নিত অপরাধীদের তালিকা করে তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। অপরাধ দমনে কিছুদিন আগে থেকে অপারেশন ডেভিল হান্ট নামে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। এর আওতায় ইতোমধ্যে বিপুলসংখ্যক অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সম্প্রতি অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়ায় অপরাধীদের ধরতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, সেনাবাহিনীর এবং বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতায় যৌথ অভিযানে বিভিন্ন স্থানে ব্লক রেইড দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ৬৪টি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছিনতাইয়ের কয়েকটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় অনেকের মনে হয়েছে, রাজধানীতে অপরাধের হার বেড়েছে। তবে ডিএমপি কমিশনারের মতে, প্রকৃতপক্ষে অপরাধের সংখ্যা অতীতের তুলনায় বেশি নয়। তিনি বলেন, আগে অপরাধ ঘটলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতো, কিন্তু এখন অনেকেই শুধু ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। তিনি নগরবাসীকে অপরাধ দমনে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।

সম্প্রতি ছিনতাইকারী সন্দেহে গণপিটুনির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় ডিএমপি কমিশনার আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রাজধানীর প্রতিটি এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। আপনারা আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না। তাই অপরাধী ধরলে পুলিশের হাতে সোপর্দ করার আহ্বান জানান তিনি।

জামিনে মুক্ত হয়ে আসা সন্ত্রাসীদের গতিবিধি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, অনেকেই আগের দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আবারও অপরাধে জড়াচ্ছে। তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের নজরদারিতে রেখেছে এবং দ্রুত আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে।

রাজধানীতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জনসাধারণের সহযোগিতা অপরিহার্য বলে উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঢাকা একটি ঘনবসতিপূর্ণ শহর, যেখানে সব জায়গায় পুলিশি টহল দেওয়া সম্ভব নয়। তাই জনগণের সহযোগিতাই অপরাধ দমনের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

নিরাপত্তা পরিদর্শন শেষে সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে আরও ছিলেন- স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়র এবং যুব ও ক্রীয়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, প্রধান উপদেষ্টা বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী, র‍্যাব-২ এর অধিনায়ক খালিদুল হক হাওলাদার, সেনাবাহিনীর ও ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

Translate