বুধবার ২২শে জুলাই, ২০২৬

জমে থাকা ক্ষোভ-হতাশার পর আশার আলো

সরকার গঠনের ৫ মাস পর রাজপথে আন্দোলনের বন্ধুদের কাছে টেনে নিলেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘদিনের সঙ্গী ৪১টি শরিক দল ও জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের আমন্ত্রণে আয়োজিত এক নৈশভোজে তিনি বার্তা দিলেন ‘এককভাবে নয়, সবাইকে নিয়েই পথ চলবে সরকার।’

সোমবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নৈশভোজে সমবেত হন প্রধানমন্ত্রী ও তার যুগপৎ আন্দোলনের মিত্ররা। আপাতদৃষ্টিতে এটি সৌহার্দপূর্ণ নৈশভোজ হলেও, দীর্ঘদিনের জমাট বাঁধা ক্ষোভ, হতাশা এবং সরকারের অংশীদার হওয়ার দাবি নিয়ে মুখ খুলেছেন শরিক নেতারা। দীর্ঘ সময় পর হলেও এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাজপথের মিত্রদের মধ্যকার দূরত্ব ও ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটে এক ‘নতুন সূচনা’ হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, সভায় শরিক দলের নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে সামনে পেয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। দীর্ঘ আন্দোলনের পর কাঙ্ক্ষিত মূল্যায়ন না পাওয়া এবং বিএনপির ‘একাকী চলার প্রবণতা’ নিয়ে অনেকে আক্ষেপ প্রকাশ করেন। কেউ কেউ ক্ষোভের চরম বহিঃপ্রকাশও ঘটিয়েছেন। তবে সব শুনে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেন এবং পর্যায়ক্রমে সবাইকে তাদের অবদান অনুযায়ী ‘প্রাপ্য মূল্যায়ন’র আশ্বাস দেন। যদিও আগামীর পথ চলায় ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য অটুট রাখার পাশাপাশি সরকার ও নির্বাচনে সম্পৃক্ত হতে চেয়েছেন মিত্ররা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যমুনার এই নৈশভোজ সভায় একদল নেতার দায়িত্বশীল ভূমিকার পাশাপাশি উঠে এসেছে কিছু ভিন্ন চিত্রও। উপস্থিত একাধিক নেতা জানান, বেশকিছু শরিক দলের বাস্তবভিত্তিক অবদান না থাকলেও তাদের চাওয়া-পাওয়া এখন আকাশচুম্বী। অনেকেই সরকারের কাছে অবাস্তব দাবি তুলে ধরেছেন। মিত্র নেতাদের কারও কারও মতে, দুর্দিনের সত্যিকারের সঙ্গীদের সঠিক মূল্যায়ন করা এবং শরিকদের অন্যায্য আবদার সামলে ফ্যাসিবাদবিরোধী এই বৃহৎ ঐক্যকে টিকিয়ে রাখা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য এক বড় পরীক্ষা।

নৈশভোজের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে যুগান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন একাধিক শরিক দলের শীর্ষ নেতা। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী খুবই আন্তরিক ছিলেন। আমি তাকে বলেছি- ‘আপনি যে আমাদের ডাকলেন-এটা কি ফেয়ারওয়েল ডিনার নাকি একটা ফ্রেশ বিগিনিং? উনি আমাদের বললেন-না এটা আমাদের ওয়েলকামিং একটা ডিনার। আমরা এখান থেকে আবার নতুন করে যাত্রা করতে চাই।’ তার (তারেক রহমান) বক্তব্যে আমার মনে হয় আমরা অধিকাংশ দল আশ্বস্ত হতে পেরেছি।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি যে, ‘আপনারা সব কাজ একা করতে পারবেন। এমন চিন্তা না করা ভালো। সবচেয়ে দুর্দিনে কঠিন সময়ে যারা সঙ্গে ছিল, এখন তাদের সঙ্গে কীভাবে চলবেন, এই রাজনৈতিক শৈলীটা আপনাদের রপ্ত করা দরকার।’

জানুয়ারিতে বাংলাদেশ জাতীয় দল বিলুপ্ত করে নেতাকর্মীদের নিয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হন দলটির চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা। তৎকালীন যুগপৎ আন্দোলনের শরিক হিসাবে ওই দলের হয়ে তিনিও আমন্ত্রণ পান প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে। তার মতো এমন আরও অনেকে আমন্ত্রণ পান।

সৈয়দ এহসানুল হুদার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শরিকদের সঙ্গে দূরত্বের যে আভাস ছিল, আমি মনে করি প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজের মধ্য দিয়ে সেই দূরত্ব কমে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর কথায় সবাই আশ্বস্ত হয়েছেন।’

ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, আমাদের লক্ষ্য এক; ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং জুলাই সনদ ও ৩১ দফার রূপরেখা বাস্তবায়ন করা। প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এখন থেকে ঘন ঘন শরিকদের সঙ্গে বৈঠক হবে। নিয়মিত এই সংলাপ চালু থাকলে রাজপথের ঐক্য আরও শক্তিশালী হবে।

Translate