ভারতের ছত্তিশগড়ের মহাসমুন্দ জেলায় একটি হীরা অনুসন্ধান প্রকল্পের আওতায় নমুনা পরীক্ষার সময় পাঁচটি হীরা পাওয়া গেছে। রাজ্যের নতুন খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে এটিকে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এনএমডিসি-সিএমডিসি লিমিটেড জানিয়েছে, মহাসমুন্দের সরাইপালি অঞ্চলের বালোদা-বেলমুন্ডি হীরা ব্লক থেকে সংগৃহীত বাল্ক স্যাম্পল পরীক্ষার পর এই হীরাগুলো উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া পাঁচটি হীরার মোট ওজন ১ দশমিক ২২ ক্যারেট। এই হীরাগুলোর মধ্যে দুটিকে উন্নত মানের পাথর হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে এবং বাকি তিনটি অন্য শ্রেণির অন্তর্গত।
অনুসন্ধান ব্লকটি থেকে সংগৃহীত প্রায় ২০০ টন খনিজসমৃদ্ধ উপাদানের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার পর এই সাফল্য আসে। সম্ভাব্য হীরা-সমৃদ্ধ অঞ্চলগুলো চিহ্নিত করতে এই কর্মসূচিতে নদীর তলানির নমুনা পরীক্ষা, ভূ-পদার্থগত জরিপ এবং খনন কার্যক্রম চালানো হয়েছিল। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই প্রাপ্তি ওই অঞ্চলে হীরার খনিজকরণের উপস্থিতি নিশ্চিত করে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সীমিত সংখ্যক হীরা উদ্ধার হলেই যে এলাকাটি বাণিজ্যিকভাবে খনির জন্য লাভজনক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে, তা কিন্তু নয়। এই খনিজ মজুতের আকার, গুণমান এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নির্ধারণের জন্য আরও বিস্তারিত অনুসন্ধান, নমুনা সংগ্রহ এবং মূল্যায়ন প্রয়োজন হবে।
এদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই এই অগ্রগতিকে ছত্তিশগড়ের খনি খাতের জন্য একটি উৎসাহব্যঞ্জক লক্ষণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, বৈজ্ঞানিক উপায়ে খনিজ অনুসন্ধান কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
উদ্ধার করা হীরাগুলো পরবর্তী মূল্যায়ন এবং নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়ার জন্য মধ্যপ্রদেশের পান্নায় অবস্থিত এনএমডিসি’র নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছে। ছত্তিশগড়ে নতুন খনিজ সম্পদের খোঁজে এই বালোদা-বেলমুন্ডি ব্লকটিতে বেশ কয়েক বছর ধরে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। বর্তমানের এই নতুন আবিষ্কার ওই এলাকায় ভবিষ্যৎ খনিজ অনুসন্ধান কাজ পরিচালনায় বেশ সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে