রবিবার ৩রা মে, ২০২৬

চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন নিউজিল্যান্ড।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন নিউজিল্যান্ডের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু হ্যাম্পটন। বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) এক সম্মেলনে তিনি বলেছেন, চীন প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধের সুযোগ কাজে লাগিয়ে তাদের সঙ্গে কৌশলগত চুক্তি সই করতে সক্ষম হয়েছে। এর ফলে, এই অঞ্চলে চীনের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত হয়ে পড়েছে।

হ্যাম্পটন আরও বলেন, চীনের কর্মকাণ্ড নিউজিল্যান্ডের গোয়েন্দাদের জন্য ক্রমশ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি সতর্ক করেন যে, নিউজিল্যান্ডের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অংশীদারদেরও এই ঝুঁকিগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক উন্নয়নকে কেন্দ্র করে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর মধ্যে, গত মাসে কুক আইল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক ব্রাউন বেইজিংয়ের সঙ্গে শিক্ষা, অর্থনীতি, অবকাঠামো, মৎস্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সমুদ্রতল খনন সংক্রান্ত একাধিক চুক্তি সই করেছেন। এই চুক্তিগুলো নিউজিল্যান্ডের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ কুক আইল্যান্ডসের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের সাংবিধানিক সম্পর্ক রয়েছে। এর ফলে, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কিত আলোচনার প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে।

হ্যাম্পটন জানান, চুক্তি স্বাক্ষরের আগে তিনি কুক আইল্যান্ডস সফর করে প্রধানমন্ত্রী ব্রাউনকে বিদেশি হস্তক্ষেপ ও গুপ্তচরবৃত্তির ঝুঁকি নিয়ে গোপন গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছিলেন। তবে, এখন থেকে কুক আইল্যান্ডস এবং চীনের সম্পর্কের ওপর আরও সতর্ক নজরদারি করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নিউজিল্যান্ড ফাইভ আইস জোটের প্রতি তার প্রতিশ্রুতি অব্যাহত রাখবে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে থাকা এই গোয়েন্দা জোটকে নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ও গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা হিসেবে উল্লেখ করেন হ্যাম্পটন। তিনি বলেন, ফাইভ আইসের গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে নিউজিল্যান্ডের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা আরও শক্তিশালী হয়েছে।

Translate