যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে হাইওয়ে দিয়ে চলার সময় বাস চালক হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়লে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে স্কুলবাস। বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঠিক আগের মুহূর্তে ত্রাতা হয়ে দাঁড়ালো বাসে থাকা একদল শিশু শিক্ষার্থী। তাদের দ্রুত সিদ্ধান্ত ও উপস্থিত বুদ্ধিতে রক্ষা পেলো সবার জীবন।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপির কাইলন এলাকায়। হ্যাংকক মিডল স্কুল থেকে শিক্ষার্থী নিয়ে বাসটি রওনা হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই চালক লিয়া টেলর হাঁপানির আক্রমণে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। হাইওয়েতে চলা অবস্থায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আঁকাবাঁকা চলতে শুরু করলে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বাসের ওই সংকটময় মুহূর্তে এগিয়ে আসে ষষ্ঠ শ্রেণির ১২ বছর বয়সী শিক্ষার্থী জ্যাকসন ক্যাস্নাভ। সে দ্রুত স্টিয়ারিং ধরে ফেলে। জ্যাকসন জানায়, ‘আমার আবেগ কাজ করার মতো সময় ছিল না। আমি শুধু চেয়েছিলাম যেন কারও ক্ষতি না হয়।’ বাসের গতি বাড়তে দেখে ব্রেক চাপার চেষ্টা করে দারিয়াস ক্লার্ক নামের আরেক ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। এয়ার ব্রেক হওয়ায় ধাক্কা লেগে সে প্রায় উইন্ডশিল্ডের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তারা দুজন মিলে বাসটিকে নিরাপদে থামায়।
শুধু স্টিয়ারিং বা ব্রেক নিয়ন্ত্রণই নয়, বাকিরাও ছিলেন বেশ তৎপর। দারিয়াসের বোন ১৩ বছর বয়সী কেলি ক্লার্ক ৯১১ নম্বরে ফোন করেন। বাসের ভেতর শিক্ষার্থীদের আর্তচিৎকারে অপারেটরের কথা শোনাই দায় ছিল, তবুও সে পরিস্থিতি সামাল দেয়। ১৫ বছর বয়সী ডেস্টিনি কর্নিলিয়াস চালকের হাতে থাকা নেবুলাইজারটি ব্যবহার করে তাকে সুস্থ করার চেষ্টা করে এবং ১৩ বছর বয়সী ম্যাকেঞ্জি ফিঞ্চ চালকের মাথা ধরে রাখে ও স্কুল ডিস্ট্রিক্টকে বিষয়টি জানায়।
পরে জরুরি সেবাদানকারীরা এসে চালক লিয়া টেলরকে উদ্ধার করেন। তিনি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। এই শিশু বীরদের সম্মানে শুক্রবার স্কুলে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শিক্ষার্থীদের এই সাহসিকতায় আবেগাপ্লুত চালক লিয়া টেলর বলেন, ‘তারা আমার জীবন বাঁচিয়েছে। আমার বাসের এই শিক্ষার্থীদের চেয়ে ভালো শিক্ষার্থী আমি চাইতে পারতাম না। তাদের প্রত্যেককে আমি ভালোবাসি। আমি সব সময় মনে রাখব, তারা কীভাবে আমার জীবন বাঁচিয়েছে।’
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান