গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে না পারা জিম্বাবুয়ে এই আসরে চমক দেখিয়ে চলেছে। টুর্নামেন্টের শুরুতে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর এবার সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কাকে ৬ উইকেটে হারিয়ে অপরাজিত থেকে সুপার এইটে উঠেছে। ‘বি’ গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে পরের পর্বে যাচ্ছে।
কলম্বোয় গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে প্রথমে শ্রীলঙ্কাকে ৭ উইকেটে ১৭৮ রানে আটকে দেয় জিম্বাবুয়ে। জবাবে মাঝপথের কিছুটা ধীরগতির ব্যাটিংয়ের পর ১৯.৩ ওভারে ৪ উইকেটে ১৮২ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে তারা।
ব্রায়ান বেনেট ও তাদিওয়ানাশে মারুমানি দলকে দারুণ সূচনা এনে দেন। ৮.৩ ওভারে তাদের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৬৯ রান। মারুমানি ও রায়ান বার্ল দ্রুত সময়ের মধ্যে ফিরলে কিছুটা ছন্দ হারায় জিম্বাবুয়ে। তবে ১৫তম ওভারে অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। টানা দুই ছক্কা ও একটি চার হাঁকিয়ে ওই ওভার থেকে তোলেন ২০ রান। ২৬ বলে ৪৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। তার ঝড়ো ব্যাটিং দলকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়। শেষ দিকে লঙ্কান দল রাজাসহ আরও একটি উইকেট তুলে মোমেন্টাম বদলের চেষ্টা করলেও টনি মুনিয়োঙ্গা (৮*) ও পুরো টুর্নামেন্টে অপরাজিত থাকা বেনেট ঠাণ্ডা মাথার ব্যাটিংয়ে ৪৮ বলে অপরাজিত ৬৩* রান করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। তার ইনিংসে ছিল ৮টি চার।
টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা পেয়েছিল স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। পাওয়ারপ্লেতে তোলে ১ উইকেটে ৬১ রান। মাত্র ৪.১ ওভারে দলীয় অর্ধশতক পূরণ করে শ্রীলঙ্কা।
আগের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের নায়ক পাথুম নিসাঙ্কা এবারও শুরুতে গতি এনে দেন। ৪১ বলে ৮টি চারে ৬২ রানের ইনিংসে কুশল মেন্ডিসকে ছাড়িয়ে টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কার সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকও হন তিনি।
এই সময় জিম্বাবুয়েকে ম্যাচে ফিরতে ভূমিকা রাখেন লেগ স্পিনার গ্রায়েম ক্রেমার। ২৭ রানে ২ উইকেট নেন তিনি। কামিন্দু মেন্ডিস ও নিসাঙ্কাকে ফিরিয়ে শ্রীলঙ্কার স্কোর ২ উইকেটে ১০০ রান থেকে ৪ উইকেটে ১২৩ রানে নামিয়ে আনেন। ১৯তম ওভারে ব্র্যাড ইভান্স টানা দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে শেষদিকে রানরেট আরও চেপে ধরেন। তার পরও পাভান রত্নায়েকে ২৫ বলে ৪৪ রানের কার্যকরী ইনিংসে শ্রীলঙ্কাকে লড়াকু পুঁজি এনে দিতে ভূমিকা রাখেন। তার ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ২টি ছয়।
জিম্বাবুয়ের হয়ে আরও উইকেট নিয়েছেন ব্লেসিং মুজারাবানি। তিনি ৩৮ রানে নেন দুই উইকেট।