সোমবার ২০শে এপ্রিল, ২০২৬

গাজা সিটির বাসিন্দাদের দক্ষিণে সরে যেতে বললো ইসরায়েল

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজা সিটির বাসিন্দাদের দক্ষিণে চলে যেতে বলেছে। শনিবার সেনাবাহিনী বলেছে, তাদের বাহিনী গাজার বৃহত্তম নগর এলাকায় তাদের অভিযান জোরদার করছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

ইসরায়েলের সামরিক মুখপাত্র আভিখাই আড্রেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স–এ লিখেছেন, বাসিন্দাদের দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনুসের উপকূলীয় এলাকায় যেতে হবে। তিনি দাবি করেন, সেখানে খাদ্য, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ওই অঞ্চলকে তিনি ‘মানবিক জোন’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নির্দেশে গাজা সিটি দখলের অভিযান চলছে। তিনি বলছেন, শহরটি হামাসের শক্ত ঘাঁটি। এটি দখল করা ছাড়া হামাসকে পরাজিত করা সম্ভব নয়। ইসরায়েলি সেনারা কয়েক সপ্তাহ ধরে শহরের উত্তরাঞ্চলের উপকণ্ঠে ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে। বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনী দাবি করে, তারা শহরের প্রায় অর্ধেক এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

গাজা সিটিতে যুদ্ধ শুরুর আগে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বসবাস করত, যা পুরো গাজার প্রায় অর্ধেক। প্রায় দুই বছরের লড়াইয়ের মধ্যে শহরটিতে আশ্রয় নিয়েছে লাখো বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি। অনেক বাসিন্দা আগেও একবার গৃহহীন হয়ে পরে আবার ফিরেছেন। এবার অনেকেই আবার বাস্তুচ্যুত হতে রাজি নন বলে জানিয়েছেন।

ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সামরিক নেতৃত্ব প্রথমে গাজা সিটিতে প্রবেশের বিষয়ে সতর্ক করেছিল। কিন্তু নেতানিয়াহু তার ডানপন্থি জোটসঙ্গীদের চাপে সেনাদের অভিযান চালাতে নির্দেশ দেন। এ জন্য ডাকা হয়েছে হাজার হাজার রিজার্ভ সেনা।

এদিকে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় কূটনৈতিকভাবে ক্রমেই একঘরে হয়ে পড়ছে ইসরায়েল। দেশটির ঘনিষ্ঠ মিত্ররাও এই অভিযানে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালিয়ে হামাস যোদ্ধারা ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায়। ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ ইসরায়েলি নিহত হয়। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, ইসরায়েলি আগ্রাসনে এ পর্যন্ত গাজায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৬৪ হাজার ছাড়িয়েছে। পুরো অঞ্চল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং চরম মানবিক সংকট চলছে।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ মনে করে, বর্তমানে ৪৮ জন জিম্মির মধ্যে ২০ জন জীবিত। পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে ক্রমবর্ধমান দাবির মুখে যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তির কূটনৈতিক সমাধানের চাপ বাড়ছে।

তবে নেতানিয়াহু দাবি করে আসছেন, সব জিম্মিকে একসঙ্গে মুক্তি দিতে হবে এবং হামাসকে আত্মসমর্পণ করতে হবে। অন্যথায় হামাসকে ধ্বংস করা হবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ শুক্রবার বলেন, হামাস ইসরায়েলের শর্ত মানা ছাড়া কোনও সমাধান নেই।

হামাস বলছে, যুদ্ধ সম্পূর্ণ বন্ধ করে ইসরায়েল গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করলে তারা সব জিম্মিকে ছেড়ে দিতে প্রস্তুত। জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও আরব দেশগুলোর মধ্যস্থতায় আলোচনা ভেস্তে যাওয়া নিয়ে উভয়পক্ষ পরস্পরকে দোষারোপ করছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন আলোচনায় আছে। তবে যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে এখনও সুস্পষ্ট কোনও অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

Translate