বৃহস্পতিবার ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬

কঠোর দমন পীড়নে ইরানের গণআন্দোলন অনেকটাই স্তিমিত: রয়টার্স

ইরানে সারা দেশে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এখন অনেকটা কমে এসেছে। সর্বসাধারণ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, নিরাপত্তা বাহিনীর মারাত্মক দমনের কারণে রাস্তায় প্রতিবাদ এখন খুব কম দেখা যাচ্ছে। শুক্রবার রাষ্ট্রীয় মিডিয়ায় আরও কিছু গ্রেপ্তারের খবর এসেছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের ভয় কিছুটা কমেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবরটি জানিয়েছে।

তেহরানের এক মা তার মেয়ের মৃত্যুর বর্ণনা দিতে গিয়ে বিক্ষোভের ওপর চলা নির্মমতা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, “আমার মেয়েটি মাত্র পনের বছরের একটা বাচ্চা। সে কোনও সন্ত্রাসী বা আন্দোলনকারীও ছিল না। ও যখন বাড়ি ফেরার চেষ্টা করছিল, তখন বাসিজ বাহিনী তাকে আন্দোলনকারী সন্দেহে অনুসরণ করে, এবং একপর্যায়ে তাকে হত্যা করেছে।” বাসিজ বাহিনী হলো ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর অধীনস্থ একটি স্বেচ্ছাসেবী আধা-সামরিক মিলিশিয়া, যারা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, বিক্ষোভ দমন এবং শাসনব্যবস্থার প্রতি আনুগত্য নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে।

তেহরানসহ অনেক শহরের বাসিন্দা জানিয়েছেন, রবিবার থেকে রাস্তাঘাট শান্ত। আকাশে ড্রোন উড়ছে, সব জায়গাতেই নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা, থমথমে পরিস্থিতি। বৃহস্পতি-শুক্রবার কোনও বড় প্রতিবাদ দেখা যায়নি। নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হেঙ্গাউ গ্রুপ বলেছে, রবিবারের পর কোনও বড় সমাবেশ হয়নি, তবে নিরাপত্তা পরিবেশ খুব কঠোর। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ)-এর হিসাবে, নিহতের সংখ্যা ২,৬৭৭ জন (২,৪৭৮ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৬৩ জন সরকারপন্থি)। গ্রেফতার হয়েছে ১৯,০০০-এর বেশি।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শুক্রবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলাদা ফোনালাপ করেন। ক্রেমলিন জানিয়েছে, পুতিন মধ্যপ্রাচ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন এবং রাজনৈতিক-কূটনৈতিক উপায়ে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিয়েছেন। ইরানি মিডিয়ার দাবি, পেজেশকিয়ান পুতিনকে বলেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল অস্থিরতায় সরাসরি জড়িত।

বিক্ষোভ শুরু হয় গত ২৮ ডিসেম্বর রিয়ালের রেকর্ড নিম্নমূল্য, মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে। এটি দ্রুত সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয় এবং ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ধর্মীয় নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানিয়ে হত্যাকাণ্ড চললে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছিলেন। তবে পরে তিনি বলেন সহিংসতা কমছে। ইরান সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে এসবের পেছনে দায়ী দাবি করেছে।

ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট উঠে যাওয়ার পর নির্যাতনের আরও খবর বেরিয়ে আসছে। ইরানের মধ্যভাগের উত্তরের শহর কারাজে এক নার্সকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। কুর্দি অঞ্চলে এ রকম ছড়ানো ছিটানো আরও ঘটনা রয়েছে। রয়টার্সের যাচাইকৃত ভিডিওতে তেহরানের ফরেনসিক সেন্টারে ডজনখানেক মরদেহ দেখা গেছে। কিছু জায়গায় বিচ্ছিন্ন অস্থিরতা থাকলেও কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে দেশজুড়ে শান্তি ফিরেছে। তবে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

Translate