মঙ্গলবার ২১শে এপ্রিল, ২০২৬

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজার অধিবাসীদের দক্ষিণ সুদানে পুনর্বাসন পরিকল্পনার অভিযোগ

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের দক্ষিণ সুদানে পুনর্বাসন নিয়ে দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইসরায়েলের আলোচনা চলার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। পুরো বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের কাছে এ দাবি করেছেন।

ওই কর্মকর্তারা বলেছেন, এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। তবে দুপক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।

কথিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় দুই বছরের যুদ্ধে বিধ্বস্ত গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে বহু বছরের রাজনৈতিক ও জাতিগত সহিংসতায় জর্জরিত দক্ষিণ সুদানে নিয়ে যাওয়া হবে।

ওই ব্যক্তিদের দাবি, গত মাসে ইসরায়েল সফরে দক্ষিণ সুদানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মানডে সেমায়া কুমবার সঙ্গে বৈঠকে এই সম্ভাব্য স্থানান্তর নিয়ে আলোচনা হয়।

এই বিষয়ে খবর প্রকাশ হলে বুধবার দক্ষিণ সুদানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেয়। পরে শুক্রবার এই পরিকল্পনার বিষয়ে আবারও জানতে চাওয়া হলে তারা আর কোনও মন্তব্য করেনি।

কথিত এই আলোচনার খবর ছয়জন কর্মকর্তার বরাতে প্রথম প্রকাশ করে মার্কিন বার্তাসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।

এসব দাবি যাচাই করতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এবং দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। তবে তাদের তরফ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও সাড়া প্রদান করা হয়নি।

কথিত পরিকল্পনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র অবগত কিনা এবং এতে তাদের সমর্থন আছে কিনা, তা জানতে চাইলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, আমরা গোপন কূটনৈতিক আলোচনায় অংশগ্রহণ করি না।

চলতি মাসের শুরুর দিকে গাজায় সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়ে সংকট আরও ঘনীভূত করে তোলেন নেতানিয়াহু। এই সপ্তাহে তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের স্বেচ্ছায় ভূমি ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত।

তবে আরবসহ অন্যান্য বৈশ্বিক নেতা গাজাবাসীকে স্থানান্তরের প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। আর ফিলিস্তিনিরা বলছে, এটি বাস্তবায়িত হলে তা হবে আরেকটা নাকবা।
ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থার (পিএলও) নির্বাহী পরিষদের সদস্য ওয়াসেল আবু ইউসুফ বলেন, আমাদের দক্ষিণ সুদান বা অন্য কোথাও পাঠানোর যে কোনও পরিকল্পনা ফিলিস্তিনি নেতৃবৃন্দ ও জনগণ প্রত্যাখ্যান করছে। একই সুর পাওয়া গেছে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে। আর ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রত ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী শ্যারেন হাসকেল বলেন, দক্ষিণ সুদানের সঙ্গে আলোচনায় গাজাবাসীর পুনর্বাসন প্রসঙ্গ ছিল না।

চলতি সপ্তাহে দক্ষিণ সুদানের রাজধানী জুবা সফর করেছেন হাসকেল।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, আমাদের আলোচনা ছিল মূলত পররাষ্ট্রনীতি, বহুপাক্ষিক সংস্থা, দক্ষিণ সুদানের চলমান মানবিক সংকট এবং যুদ্ধ নিয়ে সীমাবদ্ধ।

এদিকে, নেতানিয়াহু একাধিকবার বলেছেন, গাজা ছাড়তে ইচ্ছুক ফিলিস্তিনিদের অন্য দেশে পুনর্বাসনের জন্য কয়েকটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে ইসরায়েল। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে বরাবরই অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি।

Translate