এবার তিন ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংস্থার ওপর নেমে এলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞার খড়্গ। সংস্থাগুলো গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট বা আইসিসি) কাছে তদন্তের আহ্বান করেছিল।
মার্কিন অর্থমন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, ওই সংস্থাগুলো হচ্ছে গাজার ফিলিস্তিনি মানবাধিকার কেন্দ্র ও আল মেজান মানবাধিকার কেন্দ্র এবং রামাল্লার আল হক। এগুলোর নাম আইসিসি সংশ্লিষ্ট তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইসরায়েলের অনুমতি ছাড়াই দেশটির নাগরিকদের বিরুদ্ধে তদন্ত, গ্রেফতার বা মামলা লড়ার জন্য আইসিসিকে প্রত্যক্ষভাবে প্ররোচিত করেছে ওই সংস্থাগুলো।
গাজার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিমানহামলা, ভূমি দখল এবং উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য গত ২০২৩ সালের নভেম্বরে আইসিসির কাছে আবেদন জানিয়েছিল সংস্থাগুলো।
এক বছর বাদে, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল আইসিসি। তারা হলেন- ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট এবং হামাস নেতা ইবরাহিম আল মাসরি।
মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া, আফগানিস্তানে মোতায়েন থাকা অবস্থায় মার্কিন সেনা কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে একটি মামলা গ্রহণের সিদ্ধান্তের কারণেও যুক্তরাষ্ট্রের চক্ষুশূল হয়েছিল আইসিসি। এসব ইস্যুতে সংশ্লিষ্ট বিচারকসহ আইসিসির প্রধান কৌঁসুলির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ট্রাম্প প্রশাসন।
রুবিও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল রোম চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি। তাই আমাদের ওপর আইসিসির কর্তৃত্ব নেই। আমরা আইসিসির রাজনীতিকৃত অ্যাজেন্ডা, এখতিয়ারের বাইরে হস্তক্ষেপ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সার্বভৌমত্বকে তাচ্ছিল্য করার তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
রোম চুক্তির ভিত্তিতে ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আইসিসি। যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার বিষয়ে সংস্থাটির এখতিয়ার থাকলেও তা কেবল চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী ১২৫টি দেশের ওপর সীমাবদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ইসরায়েলসহ যে দেশগুলো রোম চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি, তারা আইসিসির কাছে আইনিভাবে দায়বদ্ধ নয়।
এদিকে, ইসরায়েলের দিকে আঙুল তোলা মানবাধিকার সংস্থাকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার কিছুদিন আগে বিশ্বে গণহত্যা বিষয়ক গবেষকদের বৃহত্তম সংগঠনে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একটি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। সেখানে বলা হয়, গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনকে গণহত্যা বলার জন্য আইনি মানদণ্ড প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তবে ওই প্রস্তাবকে লজ্জাজনক উল্লেখ করে ইসরায়েল বলেছে, এটা হামাসের ভুয়া প্রচারণার ফসল।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে অনুপ্রবেশ করে হামলা চালায় হামাস। ওই ঘটনায় হামাস অন্তত এক হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষকে হত্যা ও ২৫০ জনকে জিম্মি করেছিল বলে দাবি করে আসছে ইসরায়েল। এরপর থেকে হামাসকে নিশ্চিহ্নের শিখণ্ডি খাড়া করে গাজার ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে ইসরায়েল।
গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৬৩ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, টিআরটি গ্লোবাল