রবিবার ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬

ইরান যুদ্ধের আবহে ফের ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া, বিশ্বজুড়ে নতুন উদ্বেগ

ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই আবারও শক্তি প্রদর্শন করল উত্তর কোরিয়া। রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে দেশটির পূর্ব উপকূল থেকে সাগরে বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে কিম জং উন প্রশাসন। চলতি মাসে এটি পিয়ংইয়ংয়ের চতুর্থ এবং বছরের সপ্তম ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ। খবর রয়টার্সের।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের এই সময়ে পিয়ংইয়ং বিশ্বকে বার্তা দিতে চাইছে যে তারা আত্মরক্ষায় সক্ষম। দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা কিম কি-জং বলেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যখন যুদ্ধ চলছে, তখন উত্তর কোরিয়া দেখাতে চাচ্ছে তাদের সক্ষমতা আরও সুসংহত।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, রোববার ভোর ৬টা ১০ মিনিটের দিকে উত্তর কোরিয়ার সিনপো শহর থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোড়া হয়। এগুলো প্রায় ১৪০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে সাগরে পড়ে। সিনপো শহরটি উত্তর কোরিয়ার সাবমেরিন এবং সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এসএলবিএম পরীক্ষার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

জাপান সরকার এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের খবর নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় ‘ব্লু হাউস’ জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক ডেকে একে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলুশনের চরম লঙ্ঘন ও উসকানি হিসেবে অভিহিত করেছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসিও সম্প্রতি সতর্ক করেছেন যে, উত্তর কোরিয়া তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সুবিধা বাড়িয়ে পারমাণবিক শক্তি অর্জনে ‘অত্যন্ত গুরুতর’ অগ্রগতি সাধন করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মি উং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করলেও, পিয়ংইয়ং আলোচনার টেবিলে বসার আগে নিজেদের সামরিক শক্তি জাহির করার কৌশল নিয়েছে। কিম জং উন গত মার্চেই ঘোষণা করেছিলেন যে, পারমাণবিক রাষ্ট্র হিসেবে উত্তর কোরিয়ার মর্যাদা এখন ‘অপরিবর্তনীয়’।

Translate