বুধবার ২০শে মে, ২০২৬

আওয়ামী লীগকে আর কখনও রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: হাসনাত আবদুল্লাহ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘যে দলের প্রধানরা দেশের লাখ লাখ নেতাকর্মীকে ফেলে পালিয়ে যায়, তাদের এ দেশে রাজনীতি করার কোনও অধিকার নেই। আমাদের মতভেদ থাকতে পারে, তবে আওয়ামী লীগের ব্যাপারে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। এ দেশে আর কখনও আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।’

সোমবার দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম বাজারে পদযাত্রায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন এনসিপির এই নেতা।

দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘‎বেগমপাড়ায় আমাদের কোনও বাড়ি নেই। নেই কোনও গাড়ি। আমাদের মুরুব্বিদের অনেকেরই বেগমপাড়ায় বাড়ি গাড়ি রয়েছে। তাদের সন্তানরা বিদেশে পড়ালেখা করে, চিকিৎসা নিতে বিদেশে যায়। এ দেশের সাধারণ মানুষ দেশে চিকিৎসা নিলেও কিছু অসাধারণ মানুষ বিদেশে গিয়ে চিকিৎসাসেবা নেয়। আমাদের সন্তানরা দেশে পড়ালেখা করলেও মুরুব্বিদের সন্তানরা বিদেশে গিয়ে পড়ালেখা করে। এই ব্যবস্থা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশটাকে পাল্টাতে হবে। এজন্য সব ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।’

‎তিনি বলেন, ‘বেকারমুক্ত বাংলাদেশ চাই। এ দেশের যুবসমাজকে কাজে লাগাতে হবে। সরকারি প্রত্যেকটি সেক্টরে মেধাবীদের স্থান করে দিতে হবে। প্রাইভেট সেক্টরে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। এসএমই সেক্টরকে আরও গতিশীল করতে হবে। আর এ জন্য আগামী বাজেটে এ দাবিগুলো অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যাতে আমাদের সন্তানদের বিদেশে গিয়ে পড়ালেখা করতে না হয়। দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিকায়ন করতে হবে।’

‎‎এনসিপির এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, ‘আমরা এখন বিরোধী দলে আছি। অতি উৎসাহী কিছু পুলিশ পদোন্নতি পাওয়ার আশায় আমাদের নেতাকর্মীদের মারধর করবে, হয়রানি করবে– এটা পুলিশের দোষ না। পুলিশ প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকতে হবে।

‘আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা পুলিশ প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করে, যাতে তাদের কথা শুনে বিরোধী দলকে হয়রানি করতে পারে। তার প্রমাণ, হাসিনার আমলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখার অপরাধে গ্রেফতার হতে হয়েছিল। বর্তমান সরকারের সময়েও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখলে গ্রেফতার হতে হয়। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই না। আমাদের দেশটাকে আরও পাল্টাতে হবে।’

‎মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘যারা মাদক ব্যবসা করে, তারা দেশ ও জাতীর শত্রু। তারা যুব সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। পুলিশ আর মাদক ব্যবসায়ী একসঙ্গে চলতে পারে না। আমরা বিভিন্নভাবে জানি, যারা মাদক কারবারে জড়িত, তারা থানায় এসে দালালিও করে। এজন্য পুলিশকে আরও আধুনিকায়ন করে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স হতে হবে।’

জাতীয় যুব শক্তির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান রায়হানের সভাপতিত্বে ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন মজুমদারের পরিচালনায় পদযাত্রায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জামায়াত নেতা জয়নাল আবেদীন পাটোয়ারী, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ, জেলা যুগ্ম সমন্বয়কারী ইব্রাহিম খালেদ, এনসিপি নেতা মাসুমুল কাউছার, জাতীয় যুব শক্তির চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সমন্বয়ক জাহিদুল তালুকদার, এনসিপি নেতা মো. হানিফ পাটোয়ারী, আরিফুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

Translate