বুধবার ২২শে এপ্রিল, ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তির চিরবিদায়

অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট একজন লিজেন্ডকে হারালো। সাবেক টেস্ট অধিনায়ক ও প্রথম পূর্ণকালীন কোচ বব সিম্পসন ৮৯ বছর বয়সে পরলোকগমন করেছেন।

অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন সিম্পসন। ১৯৫৭ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত ৬২ টেস্ট খেলে ৪৬.৮১ গড়ে রান তার। বল হাতে নেন ৭১ উইকেট। তার সময়ের অন্যতম সেরা স্লিপ ফিল্ডার ছিলেন তিনি।

১৬ বছর বয়সে নিউ সাউথ ওয়েলসের হয়ে প্রথম শ্রেণিতে অভিষেক সিম্পসনের। ২১ হাজার ২৯ রানের সঙ্গে এই লেগস্পিনার নেন ৩৪৯ উইকেট।

৫০ টেস্ট খেলে ও ২৯ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে ১৯৬৮ সালে প্রাথমিকভাবে ১১ বছরের ক্যারিয়ারের ইতি টানেন সিম্পসন। কিন্তু ১৯৭৭ সালে ভারতের বিপক্ষে প্রয়োজনের তাগিদে ৪১ বছর বয়সে তিনি ফিরে আসেন টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে। তারপর ভারতের বিপক্ষে ঘরের মাঠে পাঁচটি টেস্ট ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাঠে পাঁচ টেস্টে নেতৃত্ব দেন সিম্পসন।

ক্যারিয়ারের ১০ টেস্ট সেঞ্চুরির সবগুলোই করেছেন অধিনায়ক হিসেবে। ১৯৬৪ সালে ম্যানচেস্টারে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩১১ রান করেছিলেন তিনি। ৩০তম টেস্টে সেটাই ছিল তার প্রথম সেঞ্চুরি। পরে তিনি আরও দুটি ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকান। অধিনায়ক হিসেবেই তিনি ছিলেন সবচেয়ে সফল। রিচি বেনোর কাছ থেকে ১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে নেতৃত্ব নেওয়ার আগে তার গড় ছিল ৩৩.৬৭। অধিনায়কের দায়িথ্ব নিয়ে তার গড় ৫৪.০৭।

সিম্পসনের আবারও ডাক পরে। দুই বছরের বেশি সময় ধরে কোনও সিরিজ জিততে না পেরে ১৯৮৬ সালে তৎকালীন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ড তাকে ফেরায়।

অ্যালান বোর্ডারের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়ার ড্রেসিংরুমে শৃঙ্খলার সংস্কৃতি ফেরান সিম্পসন। ডেভিড বুন, ডিন জোন্স, স্টিভ ওয়াহ, ক্রেইগ ম্যাকডারমট ও মার্ভ হিউজের মতো তরুণ দলের মাঝে স্বপ্নের বীজ বুনে দেন তিনি।

১৯৮৭ সালে লরি সাওলের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন প্যানেলে যুক্ত করা হয় সিম্পসনকে। তার হাত ধরেই শুরু হয় অস্ট্রেলিয়ার পরবর্তী সোনালি প্রজন্মের পথচলা। মার্ক টেলর, ইয়ান হিলি, মার্ক ওয়াহ, শেন ওয়ার্ন, জাস্টিন ল্যাঙ্গার, ম্যাথু হেইডেন, ড্যামিয়েন মার্টিন, গ্লেন ম্যাকগ্রা ও রিকি পন্টিংদের কোচ ছিলেন তিনি ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত।

এই সময়ে অস্ট্রেলিয়া ১৯৮৭ সালে বিশ্বকাপ জেতে এবং ১৯৮৯ সালে পুনরুদ্ধার করে অ্যাশেজ, যা ধরে ছিল তারা ২০০৫ সাল পর্যন্ত। ৯ বছরের খরা ঘুচিয়ে ১৯৯৫ সালে ফ্রাঙ্ক ওরেল ট্রফিও পুনরুদ্ধার করে অস্ট্রেলিয়া। দীর্ঘ সময় পর ওয়েস্ট ইন্ডিজে ওই সাফল্যে এক নম্বর টেস্ট দলে পরিণত হয় অজিরা।

সিম্পসনের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান মাইক বেয়ার্ড বলেছেন, ‘বব সিম্পসন ছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের মহারথীদের একজন। তাকে খেলতে দেখা কিংবা তার প্রজ্ঞার সুফল ভোগ করা যে কারও জন্য আজকের দিনটি শোকের।’

তার কোচিংয়ে সফল বাছাইপর্ব শেষে ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে খেলেছিল নেদারল্যান্ডস। ১৯৭৮ সালে অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়ার সদস্য হন, পরবর্তীতে যা কোচ, কনসালট্যান্ট ও প্রশাসক হিসেবে সেবা দেওয়ার পর ২০০৭ সালে অফিসারে (এও) উন্নীত হয়।

১৯৬৫ সালে উইজনেডের বর্ষসেরা ক্রিকেটার হওয়া সিম্পসন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট হল অব ফেমের পাশাপাশি আইসিসির হল অব ফেমেও জায়গা পান।

Translate