আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে মেয়র হিসাবে শপথ পড়ানোর ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মনোনীত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক জানান, গত কয়েকদিন সিটি করপোরেশনের সাধারণ জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলন করছেন। সর্বস্তরের মানুষ ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত দাবি মেনে না নেওয়া হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে তারা ঘোষণা দিয়েছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। বিএনপি শুরু থেকে ডিএসসিসির নির্বাচনের ফলাফলকে অবৈধ বলছে। ইতোমধ্যে আদালত তা পর্যালোচনা করে রায়ও দিয়েছেন, সেটি অবশ্যই বৈধতা পেয়েছে।
ইশরাক আরও বলেন, এ আন্দোলনে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছে। কারা সিটি করপোরেশনের গেটে তালা দিয়েছে, সেটা আমি জানি না। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। আমরা আইনিভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করব। তাছাড়া আন্দোলনকারীরা যেন জনদুর্ভোগ হয় এমন কিছু না করেন। পাশাপাশি তাদের আন্দোলনের অধিকারকেও আমি না বলতে পারি না।
তিনি বলেন, আমাদের কাছে মনে হচ্ছে ধানের শীষের প্রার্থীর প্রতি বৈষম্য করা হচ্ছে। এ মামলাটি ছিল নৌকার প্রার্থী তাপস ও নির্বাচন কমিশন নুরুল হুদার বিরুদ্ধে। এখন তাদের পক্ষ হয়ে কারা বাধা দান করতে পারে? তাহলে তো তারা সেই দোসরদেরই লোক হয়ে গেল। তাই আমরা চাই, আদালতের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক।
ইশরাক বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এ বিষয়টি নিয়ে কালক্ষেপণ করার জন্য একাধিক রেফারেন্স দিয়ে আবারও চিঠি দেওয়া হয়েছে। একটি বিশেষ দলকে সুবিধা দেওয়ার জন্য তাদের পলিসি অনুযায়ী এই সরকার কাজ করছে।
শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের আইনজীবী প্যানেল ও শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা আসিফকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা নগরভবনে তালা : ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে শনিবার স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়াকে নগরভবনে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া নগরভবনের বিভিন্ন পয়েন্টে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন সংক্ষুব্ধরা। এতে সেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। আজও বিক্ষোভ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
জানা যায়, শনিবার তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছেন সংক্ষুব্ধরা। সকাল ১০টায় নগরভবনের সামনে হাজারো বিক্ষুব্ধ মানুষ জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানান। পরে তারা সচিবালয় অভিমুখে লংমার্চ শুরু করেন। পুলিশের বাধা পেয়ে প্রেস ক্লাবের সামনে দিয়ে আবার নগরভবনে গিয়ে শেষ হয় লংমার্চ।
ফুলবাড়ীয়ায় নগরভবন থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিলটি গুলিস্তান মাজার, জিরো পয়েন্ট, পল্টন হয়ে প্রেস ক্লাবের সামনে দিয়ে সচিবালয়ের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ বাধা দেয়। মিছিলটি পুনরায় নগরভবনের সামনে ফিরে যায়। বিক্ষোভকারীরা মিছিলে গ্লোগান দেন-‘শপথ নিয়ে টালবাহানা, চলবে না’, ‘অবিলম্বে ইশরাক হোসেনের শপথ চাই’, ‘জনতার মেয়র ইশরাক ভাই, অন্য কোনো মেয়র নাই’। এর আগে সকালে নগরভবন অবরুদ্ধ করে তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন তারা। এ সময় নগরভবনের বিভিন্ন পয়েন্টে তালা লাগিয়ে দেন সংক্ষুব্ধরা।
শনিবার ডিএসসিসির সাধারণ কর্মচারীরাও বিক্ষোভে অংশ নিয়ে নগরভবনের সব গেট বন্ধ করে দেন। এতে সংস্থার প্রধান কার্যালয় অচল হয়ে পড়ে। ফলে কোনো সেবাপ্রার্থী বা কর্মকর্তা ভবনে প্রবেশ করতে পারেননি। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, আদালতের রায় ও নির্বাচন কমিশনের গেজেট প্রকাশের পরও ইশরাক হোসেনকে শপথ নিতে দেওয়া হচ্ছে না।