ইরান থেকে ছোড়া একটি ড্রোন শনিবার ভারত মহাসাগরে একটি রাসায়নিক ট্যাংকারে আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর, পেন্টাগন।
সিএইচইএম প্লুটো নামের ওই ট্যাংকারে আগুন লাগলেও তা দ্রুত নিভিয়ে ফেলা হয়েছে। কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে ইরান এ হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে ড্রোন ও রকেট হামলা বাড়িয়েছে।
মেরিটাইম সিকিউরিটি ফার্ম আম্ব্রে জানিয়েছে, ভারত মহাসাগরে এমন হামলার ঘটনা এটিই প্রথম। কোম্পানিটি আরও জানায়, ট্যাংকারটি সৌদি আরব থেকে ভারত যাচ্ছিল এবং এটি ইসরাইলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল।
গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে হুতিরা হুমকি দিয়েছে যে, তারা ইসরাইলমুখী কিংবা ইসরাইলের পতাকাবাহী যে কোনো জাহাজে হামলা চালাবে।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন সিএইচইএম প্লুটোতে আঘাত হানে। ধারণা করা হচ্ছে, জাহাজে হামলার জন্য এই প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইরানকে অভিযুক্ত করল। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছিল।
এদিকে, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী সতর্ক করেছে যে, গাজায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা অপরাধ চালিয়ে গেলে তারা লোহিত সাগরসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বন্ধ করে দিতে পারে।
পেন্টাগন জানায়, সিএইচইএম প্লুটো ট্যাংকারটি জাপানের মালিকানাধীন, লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী এবং নেদারল্যান্ডসের পরিচালিত একটি রাসায়নিক ট্যাংকার। শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় ইরান থেকে ছোড়া ড্রোনটি ভারত উপকূল থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল দূরে ভারত মহাসাগরে জাহাজটিকে আঘাত করে। এতে ট্যাংকারটির কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ঘটনাটি ভারতের গুজরাট রাজ্যের ভেরাভাল নগরীর ২০০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে সংঘটিত হয়েছে।
আম্ব্রে আরও জানিয়েছে, হামলার এলাকা ইরানের ড্রোন হামলার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর মধ্যে একটি।
হামলার পর ভারতীয় নৌবাহিনী সেখানে সাহায্যের জন্য যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে। পেন্টাগনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের পর ইরান এটি নিয়ে সপ্তমবারের মতো বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালাল।
এই হামলার ফলে, ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরাইল-হামাস যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।