দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘কেউ কেউ গুজব ছড়িয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। সমাজবিরোধী এই অপশক্তি যাতে মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এবং বিরাজমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে সেজন্য দেশবাসীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।’

গতকাল সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুভজন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতনধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে শুভেচ্ছাবিনিময় এবং পুরোহিত ও সেবাইতদের সম্মানি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু নয়, আসুন সবাই নিজেদের বাংলাদেশি ভাবি। রাষ্ট্র ও সমাজে দলমত-ধর্মবর্ণ, পরিচয় যেন মানুষের মধ্যে বিভেদ-বৈষম্য সৃষ্টির কারণ না হয় সেই উপলব্ধি থেকেই দেশের সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ রাখতে স্বাধীনতার ঘোষকের যুগান্তকারী রাজনৈতিক দর্শন “বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ”।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের সব নাগরিকের গর্বিত পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।’

হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠীবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজনকান্তি সরকারের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন, সিপিডির ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক, কালবেলা সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, স্বামীবাগ ইসকনের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ ভক্তিময় নিতাই স্বামী মহারাজ, বিএনপির সহধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, আইনমন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, বিমানমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমান উল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ডোনার, সহসভাপতি বরকতউল্লা বুলু, গণফোরাম সভাপতি সুব্রত চৌধুরীসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে আবহমানকাল থেকে দলমত-ধর্মবর্ণনির্বিশেষে সব মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহাদ্য ও সম্প্রীতি বজায় রেখে নিজ নিজ ধর্ম ও সংস্কৃতি পালন করে আসছেন। তবে সময়ে সময়ে “কংস” চরিত্রের মানুষ রাষ্ট্র ও সমাজে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশেও গণতন্ত্রকামী জনগণের সব অধিকার কেড়ে নিয়ে কংসের মতো এক নিষ্ঠুর শাসক জনগণের কাঁধে চেপে বসেছিল। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর দলমত-ধর্মবর্ণনির্বিশেষে গণতন্ত্রকামী জনগণ হাজারো প্রাণের বিনিময়ে কংসরূপী সেই ফ্যাসিস্টের পতন ঘটিয়েছে। বাংলাদেশে আবারও গণতন্ত্রের যাত্রা হয়েছে। ভঙ্গুর অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন আর অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটিয়ে এবার দেশ পুনর্গঠনের পালা।’

তারেক রহমান বলেন, ‘একটি রাষ্ট্র ও সমাজে বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের সম্মিলন থাকে। এটিই বৈচিত্র্যময় সমাজের সৌন্দর্য। আজকের এ অনুষ্ঠানে যারা “সংখ্যালঘু” কিংবা “সংখ্যাগুরু” হিসেবে বিবেচিত, ইউরোপ কিংবা আমেরিকা সফরে গেলে আমরা সবাই কিন্তু কথিত “সংখ্যালঘু”। সুতরাং বর্তমান গ্লোবাল ভিলেজে সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু এসব পরিচয় কোনো মুখ্য বিষয় নয়।’ তিনি বলেন, ‘সার্বভৌমত্ব সুসংহত রেখে সমৃদ্ধ-স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে হলে দেশে নাগরিকের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জরুরি। সেই লক্ষ্য পূরণেই বর্তমান সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড, সব ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানি ভাতা প্রদানসহ যাবতীয় উদ্যোগ গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করে চলেছে।’

হিন্দু সম্প্রদায়কে জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ দেশ আপনার আমার আমাদের সবার। নাগরিক হিসেবে এ দেশে আপনার আমার আমাদের সবার অধিকার সমান। নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার। বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, বিএনপি বিশ্বাস করে ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার, ধর্ম যার যার নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার।’ তিনি বলেন, ‘তা-ই আসুন, আমরা সবাই ধর্মীয় সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সৌহাদ্য-সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করি।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘শুভজন্মাষ্টমীর উৎসবের পরই আপনাদের সামনে আসন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব দুর্গাপূজা। আপনারা সব উৎসব-আয়োজন শান্তিতে ও স্বস্তিতে এবং নিরাপদে উদ্যাপন করুন।’

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে শুভেচ্ছাবিনিময়ের এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এর আগে হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রী হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে পুষষ্পস্তবক উপহার দেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষে তা গ্রহণ করেন সংসদ সদস্য সুবর্ণা শিকদার ঠাকুর।

অনুষ্ঠানে মন্দিরের নয়জন পুরোহিত ও সেবাইতের মধ্যে সম্মানি বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সারা দেশে পুরোহিত ও সেবাইতদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এফটিএর মাধ্যমে এ অর্থ পৌঁছে যায়।

Translate