শনিবার ১৮ই জুলাই, ২০২৬

বিশ্বের সবচেয়ে জটিল ঘড়ি ‘বার্কলে গ্র্যান্ড কমপ্লিকেশন’

ঘড়ির কাঁটায় কেবল ঘণ্টা, মিনিট আর সেকেন্ড দেখার বাইরে বাড়তি যেকোনও ফিচারকে বলা হয় কমপ্লিকেশন বা জটিলতা। সাধারণ ঘড়িতে তারিখ, অ্যালার্ম বা স্টপওয়াচের মতো দু-একটি কমপ্লিকেশন থাকে। তবে সুইজারল্যান্ডের বিখ্যাত ঘড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভ্যাচেরন কনস্ট্যান্টিনের তৈরি বার্কলে গ্র্যান্ড কমপ্লিকেশন ঘড়িটিতে রয়েছে রেকর্ডসংখ্যক ৬৩টি কমপ্লিকেশন! এটিকেই বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে জটিল পকেটঘড়ি বা কমপ্লিকেটেড ওয়াচ হিসেবে গণ্য করা হয়।

২০১৫ সালে এক বেনামি সংগ্রাহকের বিশেষ চাহিদার ওপর ভিত্তি করে ভ্যাচেরন কনস্ট্যান্টিন রেফারেন্স ৫৭২৬০ নামের একটি পকেটঘড়ি তৈরি করেছিল। হিব্রু ক্যালেন্ডার এবং একাধিক ঘটনা একসঙ্গে পরিমাপের ক্রোনোগ্রাফসহ সেই ঘড়িটি তৈরি করতে সময় লেগেছিল দীর্ঘ আট বছর। সেই চমৎকার ঘড়িটির নকশাকেই আরও উন্নত করে এবার তৈরি করা হয়েছে বার্কলে গ্র্যান্ড কমপ্লিকেশন।

১৮ ক্যারেটের সাদা স্বর্ণ দিয়ে তৈরি এই পকেটঘড়িটির ব্যাস মাত্র ২ ইঞ্চি এবং ওজন প্রায় ৯৬০ গ্রাম (২ পাউন্ড)। এর আগে বিশ্বের সবচেয়ে জটিল ঘড়ি ছিল পাটেক ফিলিপের ক্যালিব্রে ৮৯ (৩৩টি কমপ্লিকেশন)। নতুন ঘড়িটিতে তার প্রায় দ্বিগুণ ফিচার রয়েছে।

ভ্যাচেরন কনস্ট্যান্টিনের অ্যাটেলিয়ার ক্যাবিনোটিয়ার্স বিভাগের প্রধান ডোমিনিক বার্নাজ বলেন, আগের সবচেয়ে জটিল ঘড়িতে ৩৩টি কমপ্লিকেশন থাকায় আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ৩৬টি কমপ্লিকেশন তৈরি করা। কাজ করার সময় আমি প্রায়ই দলকে জিজ্ঞেস করতাম আমরা পারব কি না, আর তারা হাসিমুখে সম্মতি জানাতেন। কাজ শুরুর প্রায় অর্ধেক পথ পাড়ি দেওয়ার পর আমরা বুঝতে পারি ঘড়িটিতে আসলে কতগুলো কমপ্লিকেশন যুক্ত হতে যাচ্ছে, কারণ এটি দিন দিন আরও উন্নত হচ্ছিল। প্রতিটি কমপ্লিকেশন আলাদাভাবে তৈরি করা এক একটি বড় অর্জন, তবে সবগুলোকে একটিমাত্র ঘড়িতে নিখুঁতভাবে বসানোই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তাত্ত্বিকভাবে যেকোনও দক্ষ ঘড়ি নির্মাতা হয়তো এর চেয়েও বেশি কমপ্লিকেশনযুক্ত ঘড়ি বানাতে পারবেন, তবে সেটি আকারে একটি ফুটবল বা বড়সড় গোলকের মতো হয়ে যাবে। বার্কলে গ্র্যান্ড কমপ্লিকেশনের বিশেষত্ব হলো, এর কারিগরেরা মাত্র ২ ইঞ্চি ব্যাসের একটি কাঠামোর মধ্যে ২ হাজার ৮৭০টি অতি ক্ষুদ্র যান্ত্রিক যন্ত্রাংশ নিখুঁতভাবে বসিয়ে ৬৩টি ফিচারই সচল রাখতে সক্ষম হয়েছেন। দুই পাশ থেকেই এই পকেটঘড়ির জটিল কারুকার্য ও ফিচারগুলো দেখা যায়।

বিশ্বের সবচেয়ে জটিল এই ঘড়িটির দাম কত, তা গোপন রাখা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের অনুমান, অনন্য এই ঘড়িটির মূল্য ১০ মিলিয়ন (১ কোটি) মার্কিন ডলারেরও বেশি হতে পারে। ঘড়ি সংগ্রাহকদের কাছে এর কদর থাকায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর মূল্য কেবলই বৃদ্ধি পাবে। সুইজারল্যান্ডের ঘড়ি নির্মাতারা শত শত বছর ধরে একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। হয়তো একদিন এই ঘড়ির রেকর্ডও ভেঙে যাবে, তবে ভ্যাচেরন কনস্ট্যান্টিন তাদের আদি নকশায় একের পর এক নতুন কমপ্লিকেশন যোগ করে প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য কাজটা যে বেশ কঠিন করে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

সূত্র: ওডিটি সেন্ট্রাল

Translate