মঙ্গলবার ১৪ই জুলাই, ২০২৬

আর্জেন্টিনা নয়, সেমিফাইনালে অলিভার কানের ‘সবচেয়ে শক্তিশালী’ দল কোনটি

ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর যখন জমজমাট সেমিফাইনাল পর্বে পৌঁছে গেছে, তখন চার সেমিফাইনালিস্টের মধ্য থেকে ফরাসি দল ‘লে ব্লুজ’-কে বিশ্বকাপের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিযোগী হিসেবে বেছে নিয়েছেন জার্মানির কিংবদন্তি গোলরক্ষক অলিভার কান। ফ্রান্সকে ‘সবচেয়ে গোছানো ও নিখুঁত দল’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি এই ভবিষ্যদ্বাণী করেন।

 

আগামী ১৫ জুলাই ডালাস স্টেডিয়ামে প্রথম সেমিফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপের শেষ ১৬-র লড়াইয়ে স্পেনের বিপক্ষে ফ্রান্সের ৩-১ গোলের জয়ের পর, এই প্রথম বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে দল দুটি দ্বিতীয়বারের মতো মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। বাকি দলগুলোর শক্তিমত্তা কাছাকাছি হলেও কান ফ্রান্সকে কিছুটা এগিয়ে রাখছেন।

 

এক সাক্ষাৎকারে অলিভার কান বলেন, চলতি আসরে এখন পর্যন্ত দলগুলোর পারফরম্যান্স বিবেচনা করে যদি আমাকে একটি দল বেছে নিতে বলা হয়, তবে আমি ফ্রান্সের নাম বলব। দলের ভারসাম্য, গভীরতা এবং ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে ম্যাচ জেতার ক্ষমতার দিক থেকে তাদের সবচেয়ে নিখুঁত দল বলে মনে হচ্ছে। তবে সেমিফাইনালে ওঠা চার দলের মধ্যকার ব্যবধান খুবই সামান্য এবং যেকোনো দলেরই বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরার সক্ষমতা রয়েছে।

 

কানের মতে, স্পেন বনাম ফ্রান্সের ম্যাচটি হতে যাচ্ছে টুর্নামেন্টের অন্যতম আকর্ষণীয় একটি কৌশলগত লড়াই, যেখানে স্পেনের বল দখলে রাখার কৌশলের বিরুদ্ধে লড়বে ফ্রান্সের বিধ্বংসী কাউন্টার-অ্যাটাকিং খেলা।

 

তিনি বলেন, যে দল নিজেদের রক্ষণাত্মক কাঠামো নষ্ট না করে মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, তারাই এগিয়ে থাকবে। সেমিফাইনালের ম্যাচগুলো সাধারণত আধিপত্য বিস্তারের চেয়ে ছোটখাটো ভুলের ব্যবধানে নির্ধারিত হয়।

 

ফ্রান্সের শক্তিশালী রক্ষণভাগ ভাঙার জন্য স্পেনকে ধৈর্য ও ভারসাম্যের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে কান বলেন, স্পেনকে ধৈর্যশীল ও উদ্দেশ্যমুখী হতে হবে। তাদের দ্রুত বল পাস করতে হবে এবং শক্তিশালী রক্ষণাত্মক ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে, কারণ রক্ষণ থেকে আক্রমণে ওঠার ক্ষেত্রে ফ্রান্স অন্যতম সেরা দল।

 

জার্মানির এই কিংবদন্তি মনে করেন মিডফিল্ডের লড়াই-ই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। তিনি বলেন, এটি কেবল ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করা নয়, বরং বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে প্রেসিং করা। যে দল সেন্ট্রাল এরিয়া নিয়ন্ত্রণ করবে এবং প্রতিপক্ষকে মাঝমাঠ দিয়ে খেলতে বাধা দেবে, তারাই ম্যাচটি নিয়ন্ত্রণ করবে।

 

আধুনিক ফুটবলে গোলরক্ষকদের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কথা উল্লেখ করে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে কান বলেন, আধুনিক গোলরক্ষকরা একই সঙ্গে প্রথম আক্রমণকারী এবং শেষ ডিফেন্ডার। গোলরক্ষকের একটি ভালো সিদ্ধান্ত বা একটি ছোট ভুল ম্যাচের পুরো ফলাফল বদলে দিতে পারে। চাপের মুখে যে দলগুলো পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলবে, আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখবে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে, তারাই সফল হবে।

 

সূত্র: এনডিটিভি

Translate