বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনকে এক কাতারে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তার ভাষায়, স্বাধীনতা যুদ্ধ ছিল একটি রাষ্ট্র অর্জনের সংগ্রাম, আর জুলাই আন্দোলন ছিল গণতান্ত্রিক আন্দোলন।
রবিবার (২৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, শুধু আইন কঠোর করলেই সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয়। মাদক, জুয়া, ধর্ষণসহ সামাজিক অপরাধ মোকাবিলায় সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ধর্ষণের শাস্তি সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড হলেও অপরাধ বন্ধ হয়নি। এর পেছনে পারিবারিক ও সামাজিক অবক্ষয় দায়ী। তাই আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সমাজকে বদলানোর উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি জানান, লালমনিরহাটে ‘আলোকিত লালমনি’ নামে পাঁচটি সামাজিক অপরাধবিরোধী একটি আন্দোলন শুরু হচ্ছে। আগামী ৪ জুলাই এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। দেশের অন্যান্য এলাকাতেও এ ধরনের সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, তিনি একজন শহীদের সন্তান। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার বাবা শহীদ হয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জুলাই আন্দোলনের অবদানও স্বীকার করেন। তবে ১৭ বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে নিহত ও আহত ব্যক্তিদেরও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির আওতায় আনার দাবি জানান।
তিনি বলেন, এক মা আমার কাছে এসে বলেছেন, তার ছেলে ১৭ বছরের আন্দোলনে মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। জুলাই যোদ্ধাদের তালিকা হয়েছে, কিন্তু এত বছরে যারা নিহত হয়েছেন, তাদের তালিকা কোথায়? তাদের আত্মত্যাগেরও মূল্যায়ন হওয়া উচিত।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের গেজেটভুক্ত করা উচিত, যাতে তাদের সঙ্গে কোনও বৈষম্য না হয়।
স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে দুলু বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ আত্মাহুতি দিয়েছেন, দুই লাখ মা-বোন সম্ভ্রম হারিয়েছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন, সেটি একটি দেশের জন্য আত্মত্যাগ। আর জুলাই আন্দোলন ছিল একটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন। দুটিকে একভাবে দেখার কোনও সুযোগ নেই। তবে জুলাই আন্দোলনকেও আমরা সম্মান করি, কারণ সেই আন্দোলনের সঙ্গে আমরাও যুক্ত ছিলাম।
তিনি আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর কিছু স্লোগান অত্যন্ত অশালীন ছিল, যা দুঃখজনক। তার মতে, একটি গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুন সমাজ গঠনের পথে শালীন ও ইতিবাচক ভাষার বিকাশ হওয়া উচিত ছিল, যেমনটি ১৯৫২, ১৯৭১ ও ১৯৯০ সালের আন্দোলনগুলোতে দেখা গেছে।