বছর তিনেক আগেও চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় ‘মহাবিপন্ন’ পাহাড়ি হলুদ কাছিম ছিল আটটি, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬টিতে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে পাহাড়ি এলাকায় বাস করা এ কাছিমগুলো ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব ন্যাচারের (আইইউসিএন) লাল তালিকাভুক্ত মহাবিপন্ন প্রজাতির। ফলে সংখ্যা বাড়াতে কাছিমগুলোকে প্রাকৃতিক পরিবেশেও ছাড়ার পরিকল্পনা করছে চিড়িয়াখান কর্তৃপক্ষ।
সবশেষ গত ৬ জুন চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় হলুদ কাছিমের পাঁচটি বাচ্চা হয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে জন্ম নিয়েছিল চারটি, যার মধ্যে একটি মারা যায়। সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় বর্তমানে আটটি পূর্ণবয়স্ক, তিন বছরের তিনটি এবং ১০ দিন বয়সের পাঁচটি ছানা রয়েছে। চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর শাহাদাত হোসেন শুভ বলেন, মহাবিপন্ন প্রজাতির আটটি হলুদ পাহাড়ি কাছিম ছিল। ২০২২ সালে সেগুলোর প্রজনন বাড়ানোর একটি উদ্যোগ নিয়েছিলাম। এর অংশ হিসেবে বয়স্ক আটটি কাছিম ৪ দশমিক ৭৯ বর্গমিটারের খাঁচা থেকে সরিয়ে পরিবেশ সমৃদ্ধ ৩৩ দশমিক ৭৯ বর্গমিটারের খাঁচায় স্থানান্তর করি।-বিডিনিউজ।
তিনি বলেন, ২০২৩ সালে সেখানে বয়ষ্ক কাছিমগুলো ছয়টি ডিম দেয়। এর মধ্যে চারটি ডিম ফুটে বাচ্চা হয়। তবে একমাস পর একটি মারা যায়।প্রথমবার সফলতা পাওয়ার পর ২০২৪ সালে খাঁচায় সংস্কার কাজ করে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। ডেপুটি কিউরেটর শুভ বলেন, যার কারণে ওই বছর (২০২৪) কোনো ডিম দেয়নি কাছিমগুলো। গত বছরও একটি ডিম দিয়েছিল এবং বাচ্চাও হয়েছিল, কিন্তু সেটি কিছুদিন পর মারা যায়। গত ৬ জুন কাছিমের ডিম ফুটে পাঁচটি বাচ্চা হওয়ার কথা তুলে ধরে শুভ বলেন, এ বছর সাতটা ডিম দিয়েছিল। তার মধ্যে দুটি ডিম ফুটেনি। প্রতিবারই ডিম ফুটে বাচ্চা হতে ১২০ দিনের মত সময় লেগেছে। চিড়িয়াখানায় জন্ম নেওয়া এসব কাছিমকে প্রাকৃতিক পরিবেশে ছাড়ারও পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ।
শুভ বলেন, ২০২৩ সালে জন্ম নেওয়া কাছিম ছানাগুলো চিড়িয়াখানা সংলগ্ন পাহাড়ে ‘সফট রিলিজ’ করার পরিকল্পনা নিয়েছি। এ বছরের শেষে পাহাড়ে বেষ্টনী দেওয়া এলাকার মধ্যে কাছিমের পিঠে ট্রান্সমিটার বেঁধে ছাড়া হবে। যাতে আমরা সেগুলোর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে পারি। যদি কাছিমগুলো প্রাকৃতিক পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে পারে সেগুলো আমরা পরবর্তীতে বনবিভাগের সহযোগিতায় বিভিন্ন পাহাড়ে ছাড়ব।
ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন অ্যালায়েন্স (সিসিএ), টাটল সারভাইভাল অ্যালায়েন্স (টিএসএ) নামে দুটি বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে পাহাড়ি হলুদ কাছিম নিয়ে একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল বন বিভাগ। এর অংশ হিসেবে ২০২৪ সালে শ্রীমঙ্গলের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে প্রাকৃতিকভাবে এ কাছিম অবমুক্ত করা হয়।